রাজ্যের পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য খরচের কারণে যাতে নাজেহাল না হতে হয়, সেই কারণে রাজ্য সরকারের তরফে চালু করা হয়েছিল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারবে পড়ুয়ারা, এমনটাই বলা হয়েছিল। কিন্তু এবার এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্যই হয়রানি বাড়ল এক পড়ুয়ার।
জানা গিয়েছে, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের উপর ভরসা করে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হন এক পড়ুয়া। নাম অমিতাভ মোহান্ত। কিন্তু এরপরই বেশ বিপাকে পড়তে হয় তাঁকে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে রাস্ত্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। এর ফলে এখন কলেজের ফি মেটাতে রীতিমতো পথে বসতে চলেছে অমিতাভর পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়িতে।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কলেজে এমবিএ পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন অমিতাভ। গত বছর নভেম্বরে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গত ১৮ই ডিসেম্বর সেই কার্ড তাঁর হাতে তুলে দেন খোদ বীরভূমের জেলাশাসক। এরপর সেই কার্ড নিয়ে স্থানীয় ইউকো ব্যাঙ্কে ঋণ নিতে গেলে বিপাকে পড়তে হয় তাঁকে। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁকে ঘোরানোর পর ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয় যে ঋণ দেওয়া যাবে না।
অমিতাভের অভিযোগ, এই কার্ডের গ্যারেন্টার সরকার, কিন্তু তাআ সত্ত্বেও তাঁর দাদুকে গ্যারেন্টার হিসেবে সই করিয়েছে ব্যাঙ্ক। কিন্তু এরপরও মেলেনি ঋণ। শেষ পর্যন্ত কলেজের ফি মেটাতে ব্যক্তিগতভাবে ধার নিয়ে কলেজের দেড় লক্ষ টাকা মিটিয়েছে অমিতাভ। আর এই বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নেওয়ার জেরে এখন আর্থিক কষ্টে দিন কাটছে অমিতাভর পরিবারের।
জানা গিয়েছে, অমিতাভর বাবা পেশায় বাস কনডাক্টর। বাড়িতে মা অসুস্থ। উচ্চশিক্ষার পর ভালো চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিল অমিতাভ। কিন্তু দিনের পর দিন ব্যাঙ্কে ঘোরার পরও মিলল শুধুই হেনস্থা।
অমিতাভের অভিযোগ, “গ্যারেন্টার হিসেবে দাদুকে দিয়ে কাগজপত্রে সই করায় ব্যাঙ্ক। এমনকি মাধ্যমিকে আমার নম্বর কম থাকায় মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও দিতে বলা হয়। কিন্তু তার পরেও লোন দেওয়া হয়নি”। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম সংকটে পরিবার। যদি সরকারের এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দ্বারা পড়ুয়ারা ঋণই না পায়, তাহলে সেই প্রকল্পের দরকার কী! এখন এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





