‘রঙ্গলীলার ভিডিও পোস্ট করব’, নাম না করেই অমিতাভ চক্রবর্তীকে আক্রমণ অনুপমের, কেচ্ছা ফাঁস করার হুঁশিয়ারি

লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ততই বাড়ছে। এবার আক্রমণ করতে করতে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণ, মহিলাঘটিত ভিডিও ফাঁস, কেচ্ছা কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁসে এসে দাঁড়িয়েছে। নাম না করেই ফের একবার অমিতাভ চক্রবর্তী ও ধ্রুব সাহাকে আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। অমিতাভর কেচ্ছার ভিডিও ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর কাছে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে বলে দাবী অনুপমের।

আজ, শনিবার ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেন অনুপম হাজরা। এই পোস্টে তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়েছেন। এরপর লিখেছেন, “চক্রবর্তী এবং সাহা কোম্পানি সহ রাজ্যের মূলকর্তাদের (যারা বঙ্গ বিজেপিতে লক্ষ লক্ষ কার্যকর্তাদেরকে কোণঠাসা করে রেখেছে) যা কুকর্মের তথ্য প্রমাণ আছে – 9163287459 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন। আপনার নাম পরিচয় গোপন থাকবে। প্রয়োজনে অন্যের নাম্বার থেকে হোয়াটসঅ্যাপ করতে পারেন”।

এখানেই শেষ নয়। বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক এই পোস্টে ‘চক্রবর্তী সাহেব’-কে খোঁচা দিয়ে এও লিখেছেন ‘নোংরামিতে ফিনিশিং টাচ’ তিনি নিজে দেবেন। অনুপমের কথায়, জনৈক মহিলার সঙ্গে ‘চক্রবর্তী সাহেব’-এর ‘রঙ্গলীলা’র ভিডিও তিনি প্রকাশ্যে আনবেন। দিল্লিতে গেলে ‘চক্রবর্তী সাহেব’ কী খোঁজেন তাও জানাবেন বঙ্গবাসীকে।

বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই অনুপম বলেন যে তিনি যে ভিডিও প্রকাশ করবেন, তা কোনওভাবেই বিকৃত করা নয়। তা একেবারে ‘জেনুইন’। একইসঙ্গে এই ‘চক্রবর্তী সাহেব’-এর উত্তরবঙ্গে ৫৫ কোটির রিসর্টের গোপন তথ্যও ফাঁস করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনুপম। সবমিলিয়ে বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল যে তুঙ্গে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধ চলছে অনুপম হাজরার। বিশ্বভারতী বিতর্কে ত্রিনমুলীর অবস্থান মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলে কটাক্ষ করেন। আর এই কোন্দল চরম আকার নেয় গত বুধবার।  

গত বুধবার বীরভূমের খয়রাশোলে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল অনুপম হাজরার। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের অস্থায়ী মঞ্চ ভাঙচুর করে একদল দুষ্কৃতী। বীরভূমের জেলা সভাপতির লেঠেল বাহিনীই এই ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনুপম।

এমনকি, এও অভিযোগ ওঠে যে অনুপমের উপর প্রাণঘাতী হামলাও করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন বিধায়ক অনুপ সাহা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ধ্রুব সাহা, এমনটাই অভিযোগ করেন অনুপম। শুধু তাই-ই নয়, এদিন খয়রাশোলের ওই সভায় যাওয়ার সময় ফেসবুক লাইভে অনুপম বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও নানান ক্ষোভ উগড়ে দেন। দলের রাজ্য সভাপতিকে কেন্দ্রীয় সম্পাদকের এমন আক্রমণ যে নজিরবিহীন, তা বলাই বাহুল্য।

আরও অন্যান্য খবর