উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে এক দলবদল পর্ব দেখেছিল রাজ্য। সেই সময় তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা যোগ দেন পদ্ম শিবিরে। তালিকায় ছিলেন অর্জুন সিংও। বিজেপিতে যোগ দিয়ে টিকিট পেয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদ হন তিনি। আবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেমন এক প্রস্থ দলবদল হয়, তেমনই আবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরও বিজেপি থেকে তৃণমূলে ওয়াপসি করে একাধিক নেতা। সেই দলে ছিলেন অর্জুন সিং। এবার সামনে ফের এক লোকসভা নির্বাচন। এবার নিজের দলের আত্মশুদ্ধিকরণের বার্তা দিলেন অর্জুন।
কী বললেন অর্জুন সিং?
গতকাল, শুক্রবার শ্যামনগরের এক জনসভায় উপস্থিত ছিলেন অর্জুন সিং। এদিন মঞ্চে উঠে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কোনও নাককাটা, কানকাটা, গালকাটাদের বুথে বসতে দেওয়া যাবে না। তাদের দেখলে লোকে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য কাউকে ভোট দেবেন। সভ্য, ভদ্র মা-দিদিদের এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য কিংবা প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বুথে বসাতে হবে”। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলেই দলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ থাকবে বলে বার্তা দেন।
জনসংযোগ বাড়ানোর কৌশল বাতলে দেন অর্জুন
জনসংযোগ কীভাবে বাড়াতে হবে, সেই নিয়ে বার্তা দিয়ে অর্জুন বলেন, “এখন আমরা চায়ের দোকান, পানের দোকানে বসছি না। সেখানে বসে আড্ডা মারছি না। সেখানে বসাই ছেড়ে দিয়েছি। ক্লাবে আড্ডা মারছি না। আমরা ভেবে নিয়েছি, সবাই আমাদের কথা শোনে, ভোট দিয়ে দেবে। মানুষের সঙ্গে মিশতে শেখ। আমাদের এলাকার ৯০ শতাংশ কার্যালয়ই খোলে না। টাইম দিন”।
এই মুহূর্তে নানান দুর্নীতিতে বিদ্ধ তৃণমূল। দুর্নীতির জেরে জেলবন্দি ঘাসফুল শিবিরের একাধিক নেতা-মন্ত্রী। তৃণমূলের দাবী, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্যই তাদের এভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে অর্জুনের বক্তব্য একটু অন্য। তাঁর কথায়, “এজেন্সির সঙ্গে লড়তে গেলে নিজেকে ঠিক রাখা উচিত। বাংলায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় যা পদক্ষেপ, যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই সকলের মেনে চলা উচিত। কারণ, বাংলার রাজনীতি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের চেয়ে ভালো কেউ বোঝেন না, বোঝেন না, বোঝেন না”।
অন্যান্য দলের থেকেই রাজনীতিটা শিখতে হবে
অর্জুনের কথায়, রাজনীতি শিখতে হলে অন্যান্য দলের থেকেও শিখতে হবে। তিনি বলেন, “আমি কংগ্রেস থেকেও শিখে এসেছি। রাজনীতিতে সবসময়ে শেখার ব্যাপার রয়েছে। আমি ভোট করতে শিখেছি। ভোটে রাজনীতি করতে গেলে আমাকে বিজেপি থেকেও অনেকটা শিখতে হয়েছে। শেখার জন্য দল নয়। শক্রর কাছেও শিখতে হয়। জ্ঞান নিতে গেলে কিন্তু মাস্টারমশাইয়ের কলার ধরলে চলবে না। নমনীয় হতে হবে”।






