‘বিজেপিতে সবাই আমার বন্ধুবান্ধব’, টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে তৃণমূল ছাড়লেন অর্জুন সিং, ফের পদ্ম শিবিরে ভিড়ছেন নাকি?

তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ, অভিমান বেড়েই চলেছিল অর্জুন সিংয়ের। আজ, মঙ্গলবার সকালেই দেখা গেল তাঁর অফিস থেকে সরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। সেই জায়গায় এসেছে রামলালার ছবি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের অফিসে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি।

কী বললেন অর্জুন?

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অর্জুন তৃণমূলের প্রতি অভিমান উগড়ে বলেন, “তৃণমূলে আমাকে কেউ চায় না। দলে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেইজ্জত করা হয়েছে। আমার দেড় বছর নষ্ট হয়েছে। আমি কী এমন বলেছিলাম? বারাকপুরে লড়তে চেয়েছিলাম। তৃণমূলে যারা কাজ করেছে পুরনো দিনের প্রায় সকলকেই এভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের কাছে আনওয়ান্টেড হয়ে গিয়েছি আমি। এটা মনে করছি। তার প্রমাণও পেয়ে গিয়েছি। তবে ব্যারাকপুরের মানুষের কাছে ওয়ান্টেড”।

তাহলে কী ফের বিজেপিতেই যাচ্ছেন অর্জুন?

২০১৯ সালেও ঘটেছিল এমন ঘটনা। টিকিট না পেয়ে সেবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন। ফের কী সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? এই প্রসঙ্গে অর্জুনের বক্তব্য, “বিজেপিতে আমার সবাই বন্ধুবান্ধব। ফোন না আসার কথা বললে ঠিক হবে না। বিজেপিতে যখন ছিলাম, একটা জিনিস দেখতাম প্রতি মঙ্গলবার সাংসদদের মিটিং হত। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীজী একটা কথা বলতেন, সম্পর্ক সকলের সঙ্গে রাখা উচিত। কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা উচিত নয়”।

এদিন অর্জুন এও জানান যে তিনি মোদীর কথাকেই পাথেয় করে চলেন। তৃণমূলে ফেরা যে তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তাও মেনে নিলেন তিনি। তাঁর কথায়, তৃণমূলে ফেরার পরই তাঁকে বলা হয়েছিল যে তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁকে জানানো হয় যে ব্যারাকপুর থেকে প্রার্থী করা হবে না তাঁকে।

অর্জুনের দলবদল প্রসঙ্গে কী বলছে বিজেপি?

এই বিষয়ে বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের দলে আলাপচারিতা বন্ধ হয় না। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। যেহেতু সাংসদ পদ ছেড়ে তিনি বেরিয়ে গিয়েছেন, সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার সংসদীয় বোর্ড বলবে। আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণটুকু জানাতে পারি বোর্ডকে”।

RELATED Articles