আরজি কর (RG Kar) মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কলকাতা শহর জুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সাধারণ মানুষ রাতের পর রাত রাজপথে নেমে এই জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একজোট হয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ন্যায় বিচারের দাবিতে শহরবাসীর এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার জায়গা নেই। আজ সেই দোষীর শাস্তি দিন।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। সোমবার অর্থাৎ আজ তার শাস্তি ঘোষণা করা হবে। ফাঁসি না কি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড—এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য গোটা দেশ তাকিয়ে রয়েছে। এই মামলার প্রতিটি মুহূর্তে নতুন মোড় এসেছে, যা সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
নির্যাতিতার বাবা-মায়ের দাবি, এই জঘন্য অপরাধে শুধু সঞ্জয় রায় নয়, অন্তত ৫০ জন জড়িত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পেছনের বড় মাথাগুলো এখনও ধরা পড়েনি। পরিবারটি সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমানে সিবিআই তাদের ফোন ধরছে না, কোনো সহযোগিতা করছে না। এতদিন ধরে যে লড়াই তারা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই লড়াইয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। চোখে জল নিয়ে তারা বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি, আমাদের মেয়ের আত্মা শান্তি পাক—এই আশা নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে আছি।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলায় ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমিও চাই ফাঁসি হোক। আমাদের পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে, এবার সুবিচার চাই।” মমতার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে আশা জাগিয়েছে। এই মামলা সমাজে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
আরও পড়ুনঃ শীতের দাপট শেষ? পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় বাড়ছে তাপমাত্রা! জানুন আবহাওয়ার নতুন আপডেট!
শুধু সঞ্জয় রায়ের শাস্তি নয়, যারা এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত, তাদের সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে—এই দাবিতেই সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, এই পরিস্থিতিতে নারীরা কীভাবে রাতের নাইট ডিউটি করবেন? নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই মামলার বাকি অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার দাবিতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হয়েছেন। নির্যাতিতার পরিবার এবং শহরবাসীর এই একাত্ম আন্দোলন প্রমাণ করে, অপরাধীরা যত বড়ই হোক, আইনের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।





