শুধুমাত্র একটি গান—সেটিও একেবারে সাধারণভাবে গাওয়া। কিন্তু বাবুল সুপ্রিয়র সেই গান মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ইনস্টাগ্রামে এনে দিল ১,৬৩,০০০-এরও বেশি ভিউ, ১৩,০০০ লাইক এবং প্রায় ১,০০০ শেয়ার! আর এই চমকপ্রদ সাফল্যের মধ্যেই শুরু হল নতুন আলোচনা—তবে কি সংগীতেই ফিরে যাচ্ছেন বাবুল? মধ্যরাতে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট করে তেমনই ইঙ্গিত দিলেন তিনি। আর সেই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে, যা পাঠকের মনে এক গভীর প্রশ্ন তুলছে—রাজনীতি কি তবে ছাড়তে চলেছেন বাবুল সুপ্রিয়?
পোস্টে বাবুল স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “I am an accidental politician – most know the story.” অর্থাৎ রাজনীতিতে আসা তাঁর জীবনের পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তিনি জানান, রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান একটি সাধারণ বাঙালির মতোই সীমিত, এবং কখনও ভাবেননি রাজনীতি জীবনের অংশ হবে। চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা থেকেই তিনি নির্বাচনে লড়েন ও জয়ী হন। তিনি লেখেন, “Be it a game of carroms, Ludo, Badminton, football – in this case it was winning a MP seat…”
তিনি লেখেন, “Neither did I leave music for politics, nor did I ever allow the noise of politics to contaminate or drown my music…” অর্থাৎ রাজনীতি কখনওই তাঁর সংগীতের পথকে বন্ধ করতে পারেনি। বরং সংগীত তাঁর সত্তারই অঙ্গ। তিনি আরও জানান, আসানসোলের সাংসদ হিসেবে নানা প্রকল্প রূপায়ণ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। তিনি জানান, ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছিলেন এবং তা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে করেছিলেন।
রাজনীতিতে কাজ করেও প্রশংসা খুব কমই জোটে—এমনই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাবুল। তিনি লেখেন, “BUT I REALISE IT IS A THANKLESS JOB…” তাঁর মতে, মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু যারা সরকারের দায়িত্বে থাকেন, তাঁদের প্রতি নেমে আসে অবিশ্বাস, কটাক্ষ ও অপমান। তিনি দাবি করেন, কী কী কাজ করেছেন তা গণনার প্রয়োজন নেই, বরং মানুষ বলুক তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন কিনা।
আরও পড়ুনঃ Fake Voter Alert : “বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা ৯ জেলায় ৩০% ভোটার বেড়েছে”, মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী!
সবথেকে জোরালো এবং জল্পনা বাড়ানো অংশটি আসে শেষের দিকে। বাবুল লেখেন, “Maybe, in many ways, the time has probably come to HONOUR your wishes & say goodbye to politics!!!” এই একটি বাক্যেই যেন তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। তিনি যদিও সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার কথা বলেননি, বরং লেখেন, “Time shall spell out the answer…” অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সময়ই বলে দেবে। তাঁর এই কথায় ইতিমধ্যেই আলোড়ন পড়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে। অনুরাগীদের একাংশ মনে করছেন, হয়তো খুব শিগগিরই বাবুল সুপ্রিয় আবার পুরোদমে সংগীতের দুনিয়ায় ফিরতে চলেছেন।





