এই ঘোর দুর্যোগের দিনেও রাজ্য-বিজেপি তরজা যেন থামার নয়। রোজই কেউ না কেউ একে অপরের প্রতি দোষারোপ করেন। পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের। কিন্তু কেন হঠাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসে সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে? এই প্রশ্ন করা হলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সরাসরি নিশানা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের জন্যই এই পরিণতি। আজকে বাংলা যা ভাবে আগামী দিনে দেশ ও বিশ্ব তা ভাববে। বাংলায় এই প্রবাদ দীর্ঘ দিনের পুরনো। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় সবকিছুর ক্ষেত্রে এই প্রবাদ খাটাতে চান। আর তাতেই ফল হয়েছে হিতে বিপরীত।’ নিজের সঠিক দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী পালন করছেন না বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগ, বাংলায় মৃত্যুর হার অন্যান্য সব রাজ্যের থেকে বেশি। এই রাজ্যে টেস্টে হচ্ছে না। নাইসেডে টেস্টিং কিটস পড়ে থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে মারাত্মক অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি গায়ক-মন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এই রাজ্যে। আসল পরিস্থিতি চাপা দিতেই এই উদ্যোগ বলেও অভিযোগ তার। নাইসেডে মার্চের প্রথম দিকে নমুনা পরীক্ষার জন্য ১০০টিরও বেশি কিট পাঠান হত রাজ্যের তরফ থেকে। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই নেমে গেছে। পরিস্থিতি ধাপাচাপা দিতেই করোনা অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাবুল। আর সেই কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইসিএমআর। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রাজ্য তেমন চেষ্টা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল পাঠান প্রসঙ্গেও রীতিমত একহাত নেন রাজ্য সরকারকে। তিনি বলেন, সবকটি রাজ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার গাইডলাইন পাঠাচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মানা হচ্ছে না। হাওড়া, মেটিয়াবুরুজ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি। অভিযোগ করেন লকডাউনের মধ্যেও রাজ্যে ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছে। যেসব রাজ্য খারাপ কাজ করছে সেইসব রাজ্যেই কেন্দ্রীয় পরিদর্শক পাঠানো হয়েছে।





