ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন, এবার বাংলায় বাবরি মসজিদ বানাবেন তিনি। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় হবে সেই মসজিদ। এই নিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি ট্রাস্টও গড়বেন বলে জানান। কিছু বছরের মধ্যেই বাংলায় বাবরি মসজিদ হবে বলে দাবী করেন তৃণমূলও বিধায়ক। এবার তাঁর সেই ঘোষণার পাল্টা ঘোষণা করলেন বঙ্গীয় হিন্দু সেনার সভাপতি অম্বিকানন্দ মহারাজ।
অম্বিকানন্দ মহারাজ জানান, হুমায়ুন কবীরের মসজিদ তৈরি করা নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তবে তিনি ১টা মসজিদের পাল্টা মুর্শিদাবাদের সমস্ত বিধানসভায় একটি করে রামমন্দির তৈরি করবেন। মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভায় ২২টি ছোটো-বড় রামমন্দির তৈরি করবেন তিনি, এমনটাই জানান। এই মন্দির নির্মাণে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
বঙ্গীয় হিন্দু সেনার সভাপতি অম্বিকানন্দ মহারাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, “উনি বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করুন, আমরা তাঁকে আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাকে আমরা আমন্ত্রণ জানাব, মুর্শিদাবাদের প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে রাম মন্দির তৈরির জন্য। আমরা মুর্শিদাবাদের প্রতি কেন্দ্রে একটি করে রাম মন্দির তৈরি করব। কোথাও ছোট, কোথাও মাঝারি, কোথাও বড় রাম মন্দির তৈরি করব। আজ থেকেই কাজ শুরু করছি”।
তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, “আমি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ। আমি ইসলাম ধর্ম মেনে চলি। আমার মসজিদ বানানোর অধিকার আছে। ভারতবর্ষের সমস্ত নিয়ম মেনে আমি মসজিদ তৈরি করব। আর তাই এই বিষয়টা কে কী বললেন, তাতে আমার যায় আসে না। তাঁদের প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়ার কোনও প্রয়োজন বোধ করি না”।
অম্বিকানন্দ মহারাজের ঘোষণা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “মন্দির বা মসজিদ তার বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসারে হবে। কিন্তু, হঠাৎ করে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য করার কারণ কী? আসলে উনি নিজেকে প্রচারের আলো রাখতে চান”।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ বানানো প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, গোটা মুর্শিদাবাদ এলাকার ৭৫ শতাংশ মানুষই মুসলিম সম্প্রদায়ের। জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগকে বাদ দিলে ভারতের সবথেকে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা এই মুর্শিদাবাদ। এই জেলার সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভাবাবেগকে স্বীকৃতি দিতেই এই মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক, এমনটাই জানান।
হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি একটি ট্রাস্ট তৈরি করে মসজিদের কাজ করবেন। রেজিনগর বা বেলডাঙার কোনও একটি জায়গায় ট্রাস্টের মাধ্যমে ২ একর বা ৬ বিঘা জমি কিনে এই মসজিদ তৈরি করবেন বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবেন।





