দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এক প্রাক্তন বিজেপি নেতাকে নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে চলেছে। বঙ্গ রাজনীতিতে যাঁর নাম অনেকেই হয়তো ভুলে গিয়েছেন, সেই অসীম ঘোষকেই এবার হরিয়ানার রাজ্যপাল করল রাষ্ট্রপতি ভবন। এক সময়ে যাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী নেতাদের দলছুট করার অভিযোগ উঠেছিল, তিনিই আবার দলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিলেন—তা-ও সরাসরি রাজ্যপাল পদে!
নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে সোমবার হরিয়ানার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে ঘোষিত হলেন বঙ্গ বিজেপির শেষ নির্বাচিত সভাপতি অসীম ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে চর্চা। শিক্ষকতা দিয়ে কেরিয়ার শুরু, পরে প্রবল সক্রিয়তা নিয়ে রাজনীতিতে উঠে আসা, তৎকালীন সভাপতি তপন শিকদারের পর দলীয় সমর্থন এবং নির্বাচনী জয় দুইয়ের জোরে রাজ্য সভাপতি হওয়া—এই ছিল অসীম ঘোষের উত্থানপথ। কিন্তু রাজ্য কমিটি থেকে একাধিক নেতা, বিশেষত শমীক ভট্টাচার্য ও রাহুল সিংহদের বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন তিনি।
উত্তর কলকাতার শ্রীশচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অসীম ঘোষ ১৯৯১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েই কাশীপুরে প্রার্থী হন। না জিতলেও সংগঠনে শক্ত ভিত গড়ে তোলেন। ১৯৯৮-এ সহ-সভাপতি, ২০০০-এ রাজ্য সভাপতি—এই দায়িত্ব পাওয়ার পিছনে ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা তপন শিকদারের সমর্থন। তবে সভাপতি হওয়ার পরেই সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নেতাদের কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলে অসীম একপ্রকার ‘একচ্ছত্র’ হয়ে ওঠেন।
২০০২ সালের পর ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে সরে যান অসীম। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও কিছুদিন ছিলেন, কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ক্রমশ কমে আসে। হাওড়ার এই প্রাক্তন অধ্যাপক প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় রাজনীতির বাইরেই ছিলেন। তবে রাহুল সিংহের সভাপতিত্বের সময়ে ফের তাঁকে দলে দেখা যায়। সম্প্রতি কিছু দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছিল। তখন থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল, বড় কোনও পদ পেতে পারেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির তরফে হরিয়ানার রাজ্যপাল হিসেবে অসীম ঘোষের নাম ঘোষণার পরেই সেই জল্পনা সত্যি হল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের পুরনো ‘আনন্দবাজারি’ রাজনীতির জমানার এক বিতর্কিত মুখ আবার কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি পেল। সঙ্গে সঙ্গে উঠে এসেছে বঙ্গ বিজেপির পুরনো বিভাজন, সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে দ্বন্দ্বের স্মৃতিও। পাশাপাশি এই নিয়োগকে কেউ কেউ রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রয়াস বলেও দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ Ssc protest : ‘সততার প্রতীক’ মুখ্যমন্ত্রীর সন্মুখে যেতে চেয়েও পারলেন না! নবান্ন অভিযানের বদলে শিবপুর পুলিশ লাইনে আলোচনায় চাকরিহারারা!
বিজেপি শিবির সূত্রে খবর, অসীম ঘোষকে রাজ্যপাল করে মূলত পুরনো কর্মীদের সম্মান জানাতেই এই পদক্ষেপ। যদিও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্কও তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। অতীতে যাঁদের সংগঠন থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন অসীম, তাঁদেরই সহবাসে তিনি শেষদিকে আবার ফিরে এসেছিলেন, এবং সেখান থেকেই আবার উঠে এলেন দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে।





