শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড, তীব্র স্লোগান, টানা উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ফের একবার চাকরিহারা শিক্ষকদের ‘যোগ্যতা’ ফিরে পাওয়ার লড়াই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল। ‘সততার প্রতীক’ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে মরিয়া আন্দোলনকারীরা এবার মুখোমুখি হতে চেয়েছিলেন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে তা বাস্তবে রূপ নিল না। রণক্ষেত্রের আবহের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয় তাঁদের—তাও নবান্নে নয়, হাওড়ার শিবপুর পুলিশ লাইনে।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর তরফে এই নবান্ন অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সরাসরি নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করা। সুপ্রিম কোর্টে ‘যোগ্য’দের তালিকা পাঠানোর অনুরোধ, নতুন পরীক্ষায় যোগ না দেওয়া, এবং কোনওরকম প্রতিযোগিতা ছাড়াই চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হওয়ার জন্যই তাঁদের এই জোরদার অভিযান। যদিও সকাল থেকেই পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেডে আটকানো—সব মিলিয়ে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় হাওড়ার মাল্লিক ফটক সংলগ্ন এলাকায়।
চাকরিহারাদের দাবি ছিল নবান্নে ঢোকার অনুমতি পেয়েছেন তাঁরা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানা যায়—বৈঠকের জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক হয় হাওড়ার শিবপুর পুলিশ লাইনে। প্রতিনিধি হিসেবে ২০ জন আন্দোলনকারী সেখানে বৈঠকে অংশ নেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন—এই বৈঠক কেবলমাত্র মুখ্যসচিবের সঙ্গে হলেও, তাঁদের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই মুখোমুখি আলোচনা। চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়েই এই পর্বতপ্রমাণ আন্দোলন।
চাকরিহারাদের অভিযোগ, সরকার তাঁদের প্রতি চরম অন্যায় করছে। তাঁদের বক্তব্য—যাঁরা পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন, তাঁদের ফের পরীক্ষায় বসানো হচ্ছে, অথচ ‘অযোগ্য’দের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। তাঁদের দাবি—যেহেতু তাঁরা ‘যোগ্য’, তাই চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে অবিলম্বে। আর সেই দাবিই তারা পেশ করতে চেয়েছেন ‘সততার প্রতীক’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁদের মতে, তাঁরা ডেপুটেশন দিতে যাননি, সরাসরি জবাব চাইতে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ Nabanna Abhiyaan: আকাশছোঁয়া ব্যারিকেডে ঘেরা নবান্ন! ফের পথে চাকরিপ্রার্থীরা, সোমবার শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা!
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। কমিশন পরে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও, তাতে ‘অযোগ্য’দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে আপাতত সেই পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছেন ‘যোগ্য’ দাবি করা চাকরিহারারা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার বার্তা আসায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কি আদৌ মিলবে? সেটাই এখন দেখার।





