‘একটাও চোর ছাড়া পাবে না, তৃণমূলের ঠিকানাই হবে তিহাড় জেল’, মমতার ধর্নার পাল্টা ধর্না করে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতাদের

গতকাল, বুধবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধর্না। কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে রেড রোডে ধর্নায় (dharna) বসেছেন তিনি। তাঁর এই ধর্নার পাল্টা শ্যামবাজারে ধর্না করে বিজেপি নেতৃত্ব (BJP leadership)। সেই ধর্না মঞ্চ থেকেই তৃণমূলকে বেলাগাম আক্রমণে শানায় তারা। গেরুয়া বাহিনীর হুঁশিয়ারি, কোনও চোর বাইরে থাকবে না।

এদিনের এই ধর্না মঞ্চে গোষ্ঠীকোন্দলের জল্পনা উড়িয়ে ঐক্যটার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। একই মঞ্চে দেখা মিলল শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষের। এর পাশাপাশি ধর্না মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাহুল সিনহা, রুদ্রনীল ঘোষরাও। এই ধর্না মঞ্চ থেকে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তারা। তাদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের টাকা নয়ছয় করেছে। সেই টাকার সঠিক হিসাব না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যকে কোনও টাকা দেওয়া উচিত নয় কেন্দ্রের।

এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ধর্না মঞ্চ থেকে বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এর আগে বিরোধী দলনেতার সঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। কী কথা হয়েছে সেটা বলব না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি একজন চোরও বাইরে থাকবে না। তিহাড় জেলটাই তৃণমূলের  ঠিকানা হবে”।

শুভেন্দু অধিকারীর গলাতেও একই সুর শোনা যায়। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিকে স্টিকার লাগিয়ে রাজ্যের প্রকল্প বলে চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় টাকা দিলে সেটাকে করে দিচ্ছে বাংলা গ্রাম সড়ক যোজনা। স্বচ্ছ ভারত মিশনে শৌচালয় নির্মাণের টাকা এল, তা হয়ে গেল মিশন নির্মল বাংলা। প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনায় রেশনে খাদ্য সামগ্রীকে বলে দিল খাদ্যসাথী। এই স্টিকার পিসি একটাও সত্যি কথা বলেন না”।

এখানেই শেষ নয়। এদিন ফের একবার ভুয়ো জব কার্ড নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। বিজেপির অবস্থান মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “যেই মোদীজি জব কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করানোর কথা বললেন, বিধি ঠিক করলেন, ওমনি দেখা গেল বাংলায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ জব কার্ড রাতারাতি এক কোটি কমে গেল”। তাঁর কথায়, “এই এক কোটি ভুয়ো জব কার্ডের টাকা ১০ বছর ধরে তৃণমূল লুঠ করেছে। সেই পাইপয়সার হিসাব তৃণমূলকেই দিতে হবে”।

এদিন সুকান্ত-শুভেন্দুর থেকে বেশি গলা চড়ান বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের সব টাকা দিদি বিভিন্ন রকম ‘শ্রী’ দিয়ে শেষ করে দিচ্ছেন। দিদির ‘শ্রী’ মানেই গণ্ডগোল। মমতাকে ‘দুর্নীতিশ্রী’ পুরস্কার দেওয়া উচিত”। তবে বিজেপির এই ধ্রনাকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির।

RELATED Articles