আজ, বৃহস্পতিবার রামনবমী (Ram Navami)। এদিন রাজ্যে ছুটি না দেওয়া নিয়ে আগেই রাজ্য সরকারের দিকে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গতকাল, বুধবার সন্ধ্যেতেও তিনি বলেন, “কাল রামনবমীতে নজর রাখবেন। দশ হাজার মিছিল হবে”। এবার সেই মন্তব্যের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
গতকাল, বুধবার ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাম নবমীর মিছিল সবাই করতে পারে। আমাদের মিছিল বেরোবে। যাঁর যাঁর নিজের ধর্মাচরণে কোনও বাধা নেই। কিন্তু রাম নবমীর মিছিলের নামে একটা মুসলিম এলাকায় যদি হামলা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে”।
মমতার কথায়, “মিছিল মিটিং করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু দাঙ্গা করার অধিকার কারও নেই”। তাঁর সংযোজন, “রাম কখনও তো বলেনি, ভোজালি নিয়ে মিছিল করো। আমরা বাংলার লোকেরা দুর্গা পুজোর কট্টর সমর্থক। সব ধর্ম, সব বর্ণ মিলিয়ে করি। আমাদের জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই”।
বাংলায় রামনবমীতে বিক্ষিপ্তভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। আর রাজ্যে বিজেপির প্রভাব বাড়তে বাড়তে রামনবমীতে মিছিলের বাড়বাড়ন্তও দেখা গিয়েছে। এর পাল্টা তৃণমূলও রামনবমীতে বিজেপির থেকে বড় মিছিলের আয়োজন করে। এতে পার্টি সায়ও দেয়। তৃণমূল যেমন হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করতে চায় না তেমনই আবার এটাও চায় না যে হিন্দুত্ব দেখিয়ে বিজেপি হিন্দু ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিজেদের দখলে করে নিক।
এদিকে আবার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কও বাঁচাতে হবে তৃণমূলকে। কারণ সম্প্রতি সাগরদিঘি উপনির্বাচনে যে ফলাফল সামনে এসেছে তাতে মনে হচ্ছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক দুর্বল হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই কারণেই রামনবমীর মিছিলে কোনও বাধা না দিলেও মুসলিম এলাকা থেকে দূরে থাকতেই বলা হল। এমনটা করে একদিকে হিন্দু ভাবাবেগকেও আঘাত করা হল না আর অন্যদিকে মুসলিমদের মনও রাখা গেল।





