West Bengal : দুবাই পাচারকাণ্ডে ‘নারী নি*র্যা*ত*ন’-এর অভিযোগে সরব সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সরকার চুপ কেন- প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি!

দিনে মাত্র সাত-আট ঘণ্টা কাজ, আর মাসে ৫০ হাজার টাকা আয়! শুনলেই মনে হয় সোনার সুযোগ। বিশেষ করে দুঃস্থ গৃহবধূদের কাছে এ যেন স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু। রান্নাবান্না ও বয়স্কদের পরিচর্যার মতো সহজ কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলের বহু মহিলাকে পাঠানো হচ্ছে দুবাইয়ে। কিন্তু সোনার হরিণের খোঁজে পাড়ি দেওয়া সেই যাত্রাপথই হয়ে উঠছে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত।

বাড়ির কাজের টোপে দুবাই পাঠানো মহিলাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। মুর্শিদাবাদের কান্দির এক গৃহবধূ সম্প্রতি প্রাণ হাতে করে দেশে ফিরেছেন। তিনি জানান, দিনের বেলা বাড়ির কাজ সেরে রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হত একটি ঘরে, যেখানে একাধিক পুরুষ তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালাত। শুধু তিনি নন, বাংলার আরও বহু গৃহবধূ এখনও সেখানে বন্দি হয়ে রয়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে তাঁদের যৌনদাসী করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত এজেন্টরা মূলত মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে ছড়িয়ে রয়েছে। কাজের টোপ দিয়ে মহিলাদের দুবাই পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছে তারা। পরিবার বা পুলিশ কিছু জানতেই পারে না, কারণ সবকিছু ‘চাকরি’র নামে বৈধ নথি দেখিয়েই করা হয়। দুবাই পৌঁছনোর পরেই ধরা পড়ে সেই ভয়ঙ্কর ফাঁদ, যেখান থেকে অনেকেই চাইলেও আর ফিরে আসতে পারছেন না।

যাঁরা কোনওভাবে ফিরে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই বলছেন—পরিবারের বিদেশমন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেই তাঁরা ফিরতে পেরেছেন। কিন্তু এখনও বহু মহিলা ফিরে আসার অপেক্ষায়। শুধু যুবকদের নয়, মহিলাদেরও বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই এজেন্টদের রোজগার আরও বেশি, তাই এবার লক্ষ্য করা হচ্ছে গৃহবধূদের দিকেই। অথচ কোনও থানা বা প্রশাসনকে না জানিয়েই এই পাচারচক্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

আরও পড়ুনঃ Shocking Incident: ঘরের দরজা খুলতেই নারকীয় দৃশ্য! বিছানায় র*ক্তা*ক্ত মেয়ে ও জামাই, আঁতকে উঠলেন শাশুড়ি!

এই ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে আসতেই মুখ খুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “বাংলার নারীদের জন্য আজকের বাস্তবতা ভয়ঙ্কর! সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে গজিয়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গৃহবধূদের মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে দুবাইয়ে পাচার করা হচ্ছে। ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্নে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া বাঙালি মেয়েরা বিদেশের মাটিতে যৌনপণ্যে পরিণত হচ্ছে! পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা গর্ভধারণ ও বাল্যবিবাহের হার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। চাকরি নেই, কর্মসংস্থান নেই—ফলে মেয়েরা আজ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বিকার। উনি একটাও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না! বাংলার মহিলাদের আজ একা লড়তে হচ্ছে তাঁদের সম্মানের জন্য।”

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles