সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। এই নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভারতীয় সেনার এই সফল অভিযানকে সামনে রেখে একপক্ষ দেশের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো বললেও, অন্যপক্ষের একাংশের মতে, এর পিছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বার্তা। এমন আবহেই ‘সিঁদুর’ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী একটি জনসভায় বলেন, “আমার শরীরে রক্ত নয়, সিঁদুর বইছে।” এমন মন্তব্যের পর অনেকে দাবি করেন, এটি আবেগে সুড়সুড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টা। সেইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, ভারতের সমস্ত জনগোষ্ঠী কি এই সাংস্কৃতিক প্রতীকটির সঙ্গে একাত্ম? বিরোধীদের একাংশ মনে করছেন, এই বক্তব্যে দেশের একটি নির্দিষ্ট অংশের সংস্কৃতিকেই তুলে ধরা হয়েছে, গোটা দেশের নয়।
সিঁদুর নিয়ে এই বিতর্কের মাঝেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “সিঁদুর আমাদের সংস্কৃতির অংশ, বিবাহিত মহিলারা সম্মানসহ পরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সেই ঐতিহ্যের অবমাননা।” যদিও অনেকে মনে করছেন, সিঁদুর আসলে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এটিকে জাতীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক করে তোলার কোনও প্রয়োজন নেই।
সমাজের একাংশের মতে, আজকের দিনে সিঁদুর পরা সম্পূর্ণরূপে একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ। কেউ কেউ এটিকে সংস্কারের অংশ মনে করলেও, অনেকেই মনে করেন, এটি একটি অভ্যাস মাত্র। ইউটিউবে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ জানান, “অনেক আধুনিক মহিলা সিঁদুর পরেন না। তাহলে কেন এটি সকলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ভাবনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?”
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : নতুন টাকায় নেই মুজিব, শুধু ধর্মীয় স্থাপত্য! ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্তে বিতর্ক তুঙ্গে!
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে, সিঁদুর আদৌ কি নারী স্বাধীনতার পক্ষে কোনও উজ্জ্বল প্রতীক? প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমাজ বিশ্লেষক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। ওই প্রবীণ আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, “সিঁদুর পরার মূল উৎস কোথা থেকে এসেছে? তা কি মহিলাদের স্বাধীনতার পক্ষে যায়?” তাঁর মতে, এই প্রথাটি কেবলমাত্র একটি অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে, যার পিছনে যুক্তির থেকে সংস্কার বেশি কাজ করছে। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এই প্রথাকে সামনে এনে জাতীয়তার প্রতীক রূপে দেখানো কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





