আধুনিক যুগে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। হঠাৎ অপরিচিত কারো সঙ্গে আলাপ, বন্ধুত্ব, তারপরে সম্পর্ক—এই দৃশ্য আজ আর নতুন নয়। তবে সেই সম্পর্ক যদি অন্ধবিশ্বাসে গড়ে ওঠে, আর তার সুযোগ নিয়ে কেউ প্রতারণা করে, তাহলে ফল হতে পারে ভয়াবহ। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে উঠে এসেছে তেমনই এক ঘটনা, যা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, বনগাঁ থানার অন্তর্গত এক মধ্যবয়সী ডিভোর্স মহিলার অভিযোগে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয় মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। অভিযোগ, সেই সম্পর্কের জেরেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন। অভিযুক্ত যুবক বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে। তার পরেই তৈরি হয় শারীরিক সম্পর্ক।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে অভিযুক্ত যুবক। প্রথমে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরে তা না রেখে উলটে শুরু হয় হুমকি ও অর্থ দাবি। ওই মহিলার দাবি, ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার থেকে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়।
এমনকি ওই মহিলার কথায়, সমস্ত ঘটনার পরেও অভিযুক্ত থেমে থাকেনি। ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল চলতেই থাকে। এরপরেই আর দেরি না করে বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের কান্দি থানা এলাকার দক্ষিণ লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত সাগর রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে এবং হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Operation sindoor : “সেটা কি নারী স্বাধীনতার পক্ষে উজ্জ্বল?”—অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন বাম নেতা বিকাশরঞ্জনের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর পরিচয় হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। সেখানে শুরু হয় কথাবার্তা, তারপর বন্ধুত্ব ও প্রেম। প্রেমের সম্পর্ক থেকেই শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। সেই সম্পর্কের সময় তোলা ছবিই পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হয়ে ওঠে। মহিলা আরও জানান, তার তিনটি সন্তান রয়েছে, তিনি ডিভোর্স এবং বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে একাই থাকতেন। এই পরিস্থিতিতেই সুযোগ নিয়ে তার বিশ্বাসের অপব্যবহার করে যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






