ছেলের সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন, উগ্র বাম ধর্মঘটীদের হাতে আক্রান্ত বৃদ্ধ

কর্মসংস্থান, শিল্প, স্কুল খোলা সমেত নানান দাবি-দাওয়া নিয়ে গতকাল নবান্ন অভিযান করে বাম যুব সংগঠন। যথারীতি রাজ্য প্রশাসনের তরফে যুব বাম সমর্থকদের নবান্ন যাওয়া থেকে আটকানোর জন্য চারিদিকে বিশাল নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। বামেদের নবান্ন অভিযান আটকাতে পুলিশ জলকামান থেকে শুরু করে লাঠিচার্জও করে। পুলিশের লাঠিচার্জে অনেক যুব বাম কর্মীই গুরুতর আহত হয়।

এরপর রাজ্যের প্রাক্তন বাম সাংসদ মহম্মদ সেলিম রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করেন। আর বাম কর্মীদের উপর হওয়া লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আজ ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলা বন্ধের ডাক দেন।

আর আজ সেই ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পড়ে বামেরা। এতে তীব্র অসুবিধার মুখে পড়ে আমজনতা। অনেকেরই আজ পরীক্ষা দেওয়ার দিন ছিল, ধর্মঘটের জেড়ে পরীক্ষা স্থলে পৌঁছতে পারেননি অনেকে।

আসানসোল শহরের বেশ কিছু জায়গায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। আসানসোলে বাম ধর্মঘটীরা ধর্মঘট পালন না করায় পথচারী আর আরোহীদের মারধর করে বলে‌ও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মারধর করার ভিডিও পাওয়া গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, বাম কর্মী-সমর্থকরা একজন বাইক আরোহীকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে বেধড়ক চড় থাপ্পড় মারছে। এমনকি বাইক চালকের হেলমেট খুলেও তাঁকে মারধরের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরপর ওই বাম কর্মী-সমর্থকদের থেকে কোনওমতে নিজেদের উদ্ধার করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ওই বাইক চালক। যদিও তাতে হাল ছাড়েনি ধর্মঘটীরা। বাইক চালকের পিছনে অনেকখানি ধাওয়া করতে দেখা যায় ধর্মঘটীদের। একজন ধর্মঘটী অনেক খানি ধাওয়া করতে করতে বাইক চালককে ধরতে না পেরে শেষে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, উগ্র ধর্মঘটীদের হাত থেকে কোনোভাবে ওই বাইক চালককে রক্ষা করে ধর্মঘটীদের একাংশ। ধর্মঘটীরা জানিয়েছে, মহিলাদের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করেছিল ওই বাইক আরোহী। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। আরেকদিকে, বাইক আরোহী জানিয়েছেন, তিনি নিজের বয়স্ক বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ডাক্তার দেখাতে। রাস্তায় বামেরা তাঁদের গাড়ি আটকে তাঁকে আর তাঁর বাবাকে মারধর করে।

আক্রান্ত এই বাইক আরোহীর কথায়, আমার বয়স্ক বাবা ওদের মারধর বন্ধ করার আবেদন করার পরেও ওই বাম কর্মী সমর্থকরা কথা শোনেনি।

RELATED Articles