অনেকদিন আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর আজ, রবিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হল আলিমুদ্দিন স্ট্রীটের মুজফফর আহমেদ ভবনের ছাদে। এই প্রথম জাতীয় পতাকা তুলে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হল বামেদের তরফে।
কিন্তু শুরুতেই বিপত্তি। আসলে অভ্যাস না থাকলে যা হয় আর কী! এদিন মুজফফর আহমেদ ভবনের ছাদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাম চেয়ারম্যান বিমান বসু। কিন্তু তা করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয় তাঁর। প্রথমে উল্টো জাতীয় পতাকা তুলছিলেন তিনি। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা চোখে পড়ায় এসে তা শুধরে দেন সুজন চক্রবর্তী। এরপর তাঁর সহযোগিতাতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিমানবাবু।
এর আগে দিল্লির একে গোপালন ভবন, ত্রিপুরার সিপিএমের রাজ্য দফতর আগরতলার দশরথ দেব ভবনে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও, বাংলায় এই প্রথম। কেন্দ্রীয় কমিটিতে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুজন চক্রবর্তী। গত কয়েক বছর ধরেই দলের গণসংগঠনগুলি স্বাধীনতা দিবস পালনে উদ্যোগী হলেও পার্টির তরফ থেকে কখনও এমন কর্মসূচী নেওয়া হয়নি। তবে এবার হল।
এদিন পতাকা উত্তোলন করে বিমান বসু শপথবাক্য পাঠ করেন। এবছরই কেন জাতীয় পতাকা তোলা হল? এই প্রশ্নের উত্তরে বিমানবাবু বলেন, “এটা স্বাধীনতার ৭৫ বছর। তাছাড়া এখনই দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান, সার্বভৌমত্ব আক্রান্ত। তাই এবার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে”।
সুজন চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেন যাতে গোটা দেশে স্বাধীনতা দিবসের দিন এই কর্মসূচী নেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেন সীতারাম ইয়েচুরিরা। এরপরই বাংলার সমস্ত সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- ‘মাতঙ্গিনী হাজরা অসমের’, লালকেল্লায় ভুল মন্তব্য মোদীর, ‘অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত’, তোপ তৃণমূলের
তবে সিপিএম সূত্রে খবর, অনেক জায়গাতেই শাখাস্তরে নানানা প্রশ্ন তুলে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। হাওড়া, হুগলী, পূর্ব বর্ধমানের নানান জায়গায় স্থানীয় সিপিএম নেতারা চিঠি লিখে যাতে চেয়েছেন যে “এতদিন তো এই কর্মসূচি করা হত না, তাহলে এখন কেন”? আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “তাহলে কী বাংলার পার্টি এতদিন ভুল পথে চলছিল”? এমনও জানা গিয়েছে যে বর্ধমান জেলার এক সিপিএম নেতা প্রশ্ন করেছেন যে, “এবার কী পার্টি অফিসে তাহলে সত্যনারায়ণ পুজোও হবে”?





