বঙ্গ বিজেপির (Bengal BJP) ক্ষমতাসীন নেতারা রাজ্যের প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) নানান বিষয় থেকে ব্রাত্য করে রাখলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে কিন্তু তাঁর উপরই ভরসা করতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayet Election) দিলীপকে কাজে লাগাতে হবে।
সদ্য রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল থেকে শুরু করে সতীশ ধনদ, মঙ্গল পান্ডেরা টানা কয়েকদিন ধরে বাংলায় গিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। রাজ্যের বেশ কিছু জায়গা ঘুরেও দেখেছেন কয়েকজন। তারপরই তাঁদের উপলব্ধি, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে ভাল ফল করতে হলে দিলীপকে কাজে লাগাতেই হবে। সেইমতোই দিলীপকে তো বটেই, একই সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকেও বার্তা দিয়েছেন বনশলরা।
এই বার্তায় ঠিক হয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য দীপাবলির পর থেকেই বাংলার বিজেপির নেতারা জেলা সফর শুরু করবেন। প্রধান যে তিনজন নেতা জেলা সফর করবেন, তাতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রয়েছে দিলীপের নামও।
দলের পর্যবেক্ষকের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেও, তা মেনে নিয়ে হয়েছে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গ বিজেপির এক নেতা বলেন, “বাংলার গ্রামে-গঞ্জে বিজেপি নেতা হিসেবে দিলীপের জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেকথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সেই জনপ্রিয়তাকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাজে লাগানো হবে। আর উনি দলের পুরনো নেতা, রাজ্যের নানা জায়গায় ঘুরেছেন, অভিজ্ঞতাও বিস্তর”।
বঙ্গ বিজেপির নানান নেতাদের সঙ্গে যে দিলীপ ঘোষের সমীকরণ এখন তেমন ভালো যাচ্ছে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দিলীপের নিজের মতো করে নানান কাজ করা থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা, সমস্ত কিছু নিয়েই আপত্তি রয়েছে বঙ্গ বিজেপির।
কিছু মাস আগেই দিলীপকে সংবাদমাধ্যমে খুল খোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। ওই বঙ্গ বিজেপির নেতার কথায়, “উনি যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে নানা বিষয়ে মন্তব্য করেন, তা শহরের শিক্ষিত মানুষ মেনে নিতে পারে না। পরিসংখ্যান দেখলে বুঝতে পারবেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভোট বা কলকাতা, শহরাঞ্চলে বিজেপির ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েছে”।






