বাংলার রাজনীতিতে এবার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপির সাংগঠনিক পরিবর্তন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিজেপি কি নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে চাইছে? নাকি দীর্ঘদিনের পুরনো নেতৃত্বকে সরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কৌশল গ্রহণ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় ব্যাপক রদবদল করেছে বিজেপি, যার মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি জেলা সভাপতিই নতুন। ফলে, রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, নতুন মুখের হাত ধরেই কি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দিতে চলেছে বিজেপি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব আনার অর্থই হল ভোটের কৌশলে বদল আনা। বিজেপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তও এই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় পুরনো নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে, এই পদক্ষেপে বিজেপির দলীয় ঐক্যে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে সাংগঠনিক নির্বাচন থমকে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন অনেকে। তবে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছিল, ধাপে ধাপে সব সাংগঠনিক জেলার সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে।
অবশেষে বুধবার বিজেপি ৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে পুরনো মুখ বলতে শুধু বীরভূমের ধ্রুব সাহা। বাকি সাতটি জেলায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে ২৫টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে, এখন পর্যন্ত ৩৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ২৪টি জেলায় নতুন নেতৃত্ব এসেছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির এই রদবদল কি রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলবে?
বিজেপির তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, কোনও বিধায়ক বা সাংসদ জেলা সভাপতি পদে থাকবেন না। সেই নিয়ম মেনেই একাধিক বিধায়ককে সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ছিলেন অমরনাথ শাখা, আলিপুরদুয়ারের দায়িত্বে ছিলেন মনোজ টিগ্গা— এই দুই নেতাকে সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সভাপতি হয়েছেন মিঠু দাস, বহরমপুরের দায়িত্বে এসেছেন মলয় মহাজন, ডায়মন্ড হারবারে দায়িত্ব পেয়েছেন সোমা ঘোষ, হাওড়া গ্রামীণে সভাপতি হয়েছেন দেবাশিস সামন্ত, মেদিনীপুরে দায়িত্বে এসেছেন সমিত কুমার মণ্ডল, বিষ্ণুপুরে সুজিত অগাস্তি এবং বোলপুরে শ্যামাপদ মণ্ডল।
আরও পড়ুনঃ Hiranmay Maharaj : “গলা চেপে ধরে, অস্ত্র দিয়ে…”– বাংলায় আক্রান্ত হিন্দু সন্ন্যাসী! নিজেই জানালেন সেই রাতের ভয়ংকর কাহিনি!
তবে বিজেপি এখনও ১০টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির নাম ঘোষণা করেনি। এই জেলাগুলোতেও কি নতুন নেতৃত্ব আসবে? নাকি কিছু পুরনো মুখ ধরে রাখবে বিজেপি? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই পরিবর্তন আসলে নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে রাজ্য দখলের প্রস্তুতি। এবার কি বিজেপির নতুন মুখরাই নির্বাচনে বাজিমাত করবে? নাকি নতুন নেতৃত্ব নিয়েও দলীয় সমস্যায় পড়তে হবে গেরুয়া শিবিরকে? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ।





