বাংলাদেশের(Bangladesh) রাজনৈতিক আবহ যেন ক্রমশ ঘোরাল হচ্ছে। কিছুদিন আগেই শেখ হাসিনার সরকারকে বিদায় জানিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু তাঁর সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক মাথাচাড়া দিচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছে। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশও গভীর নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর।
এর আগে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় হামলার শিকার হয়েছিল। সেই সময় থেকেই ক্রমশ ভারত-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ সরকার বদলের পরও পরিস্থিতির বদল হয়নি। বরং, নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এবার সেই ক্ষোভ কি সেনাবাহিনীর দিকেও ছড়িয়ে পড়েছে? কেন হঠাৎ জরুরি বৈঠকে বসল সেনাবাহিনী? উঠছে নানা প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে সোমবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাঁচজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, আটজন মেজর জেনারেল (জিওসি), স্বাধীন ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার এবং সেনা সদর দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এই ধরনের বৈঠক সাধারণত দেশের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গুঞ্জন উঠেছে, তবে কি সেনাবাহিনী দেশের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে? নাকি সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?
আরও পড়ুনঃ CAA পাশ হলেও ভোটাধিকার নেই! বাংলায় হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাম কেটে দিচ্ছে প্রশাসন? বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ!
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপাতত তিনটি বিকল্প ভাবছে। এক, রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করানো। দুই, সরাসরি মহম্মদ ইউনূস সরকারকে অপসারণ করে সেনাবাহিনীর হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া। তিন, সামরিক বাহিনীর অধীনে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা। যদিও এই নিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক নিছকই প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
এদিকে, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান এই জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি পেশাদার বাহিনী, দেশের আইন অনুযায়ীই কাজ করছে। তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সেনাবাহিনীর এই ধরনের জরুরি বৈঠক কোনো না কোনো বড় সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করছে। ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে বড় পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





