হতাশাগ্রস্ত! ভোটে হারার পরই স্পষ্ট বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত, একে অপরকে কড়াভাবে দোষারোপ বিজেপি নেতাদের

বেশ ভালোভাবেই জোর কদমে শুরু হয়েছিল প্রচার। রাজ্যের নানান বিজেপি নেতা তো বটেই, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা পর্যন্ত এই রাজ্যে এসে ভোট প্রচার করে গিয়েছেন। বাদ পড়েননি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, এমনকি যোগী আদিত্যনাথ পর্যন্তও। ভোট প্রচারের জন্য মাঠে নামানো হয় বলিউড সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীকেও প্রচার করেছেন। কিন্তু লাভ আখেরে কিছুই হয়নি।

বাংলা জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মসনদ দখল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই ফলাফলের পরই বিজেপিএর ভেতরের সংঘাত প্রকট হতে শুরু করেছে। এই হারের জন্য বিজেপি নেতৃত্বদেরই দোষারোপ করছেন বিজেপি নেতারা। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন একাধিক নেতা। ‘মিশন বেঙ্গল’ টার্গেট ব্যর্থ হতেই শুরু একে অপরকে দোষারোপ।

আরও পড়ুন- ‘ভোটে হেরেও মুখ্যমন্ত্রী হলেন, রাজ্যে এর আগে এমন হয়নি’, মমতাকে তীব্র তোপ শুভেন্দুর

ভোটের ফল প্রকাশের পরই বহু কর্মী-সমর্থক প্রকাশ্যে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। শুধু তাই-ই নয়, দলের পরিচিত নেতারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য করেছেন। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য ফেসবুকে লেখেন, “সাত বছর ধরে কর্মী হিসেবে যখন যেটুকু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেটুকু করার চেষ্টা করেছি। ২০১৯-এর পরে হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা স্বঘোষিত আরএসএস হওয়া মানুষের বাড়বাড়ন্ত নেতাদের ছড়াছড়ি দেখলাম দলের স্থানীয় ক্ষেত্রে। কর্মীদের উপর অত্যাচার আটকানোর জন্য এবার তাদের এলেম কতটা আছে সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম”।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন যে বিজেপির কাছে অভিজ্ঞ প্রার্থীর অভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ব্যর্থ আমরা নই। আমরা ২৬ গুণ শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি বাংলায়। এত আসন আজ পর্যন্ত কোনও পার্টি বাড়াতে পারেনি। এটা ব্যর্থতা নয়। আমরা টার্গেট পূর্ণ করতে পারিনি, কিন্তু যা ফল হয়েছে, তা ঐতিহাসিক। এই প্রথমবার আমরা বাংলায় বিরোধী দল। বিজেপি-কে মানুষ যোগ্য বিরোধী দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন”।

রাজ্যের ভারতীয় জন যুব মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দেন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডাকে ট্যাগ করে তিনি বলেন, “আপনাদের উচিত আমাদের নেতাদের নিরাপত্তা বাড়ানো। কার্যকর্তারা মারা যাচ্ছেন। আপনারা ওদের খুব হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছেন”। এরপর কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও শিব প্রকাশের উদ্দেশ্যে তরুণজ্যোতি কটাক্ষ করে বলেন যে “ধন্যবাদ আপনাদের এত সুন্দর প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য। নমস্কার ভাইসাব”।

হতাশাগ্রস্ত! ভোটে হারার পরই স্পষ্ট বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত, একে অপরকে কড়াভাবে দোষারোপ বিজেপি নেতাদের

আরও পড়ুন- বিজেপির তরফে কে হতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা? জেনে নিন

এমনকি, রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধি। আমরা যদি আমাদের কর্মীদের সুরক্ষা দিতে না পারি, আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আমাদের আগামী সময়ে আন্দোলন করা উচিত। দলকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করব”।

RELATED Articles