কলকাতা পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পাড়ারই অজস্র লোকজন, নিয়োগ দুর্নীতির মাঝেই উঠল বড় অভিযোগ

নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে রাজ্যে বিতর্ক তো অব্যাহত। শাসক দলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে এই দুর্নীতিতে। একাধিক নেতা-মন্ত্রী জেলবন্দিও রয়েছেন। আর এসবের মধ্যেই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। যা এই নিয়োগ দুর্নীতির পথকে যেন আরও একটু তরান্বিত করল। কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সামনে এল বড়সড় তথ্য।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বহিষ্কৃত তৃণমূল যুব নেতা ঘনিষ্ঠ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অয়ন শীলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই জানা যায়, শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, একাধিক পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও হয়েছে তুমুল দুর্নীতি। রাজ্যের প্রায় ৬০টি পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসে।

এই দুর্নীতি নিয়ে যখন গোটা রাজ্য উত্তাল, এমন আবহে এবার কলকাতা পুরসভায় নিয়োগ নিয়েও উঠে এল নানান অভিযোগ। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে জবাব চেয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে। কিন্তু তাঁর প্রশ্নটা ঠিক কী? আর কী অভিযোগই বা এনেছেন তিনি?

কলকাতা পুরসভায় বিশেষ বিভাগে নিয়োগ হওয়া কর্মীদের একটি তালিকা প্রকাশ্যে এনেছেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবী, এই বিশেষ বিভাগে চাকরি হওয়া ১৪৮ জনের মধ্যে ১১৮ জন নদিয়া বা এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের, ২৪ জন চেতলা বা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পাড়া থেকে আর বাকি ৬ জন ভদ্রেশ্বর বা বৈদ্যবাটি অঞ্চলের।

বিজেপি নেতার প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের আর কোনও প্রান্ত থেকে কী পুরসভার চাকরির জন্য কেউ আবেদন করেন নি? নাকি অন্য কোনও প্রান্তের মানুষ এই চাকরির জন্য উপযুক্ত ছিলেন না? শুধুমাত্র এই তিনটে অঞ্চল থেকেই কেন? আর খোদ মেয়রের পাড়া থেকে এত লোক একসঙ্গে চাকরি পেয়েছেন, তা কী সন্দেহজনক নয়?

শুধু তাই-ই নয়, বিজেপি নেতা এও প্রশ্ন করেছেন যে তাহলে এখন যা সব খবর দেখা যাচ্ছে, সেই রকম কোনও ঘটনা কী এই ক্ষেত্রেও ঘটেছে? অর্থাৎ বিজেপি নেতা ঘুরিয়ে কলকাতা পুরসভাতেও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। তাঁর প্রশ্ন থেকেই স্পষ্ট তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে কলকাতা পুরসভাতেও হয়ত নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে।

একদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে যখন শাসক দল জর্জরিত। একাধিক তাবড় তাবড় নেতাদের নাম উঠে আসায় যখন তৃণমূল বেশ অস্বস্তিতে, সেই সময় আরও এক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ যে ফের নতুন করে ফিরহাদকে বা তাঁর দলকে বেশ চাপে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles