শুভেন্দুর পর এবার প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে ছক্কা হাঁকাতে মাঠে নামলেন বিজেপির শোভন। দীর্ঘদিন গেরুয়া শিবিরে প্রবেশ করলেও কখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপির হয়ে কথা বলতে শোনা যায়নি শোভনকে। বরং সদাই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। বৈশাখের জন্য প্রাপ্য মর্যাদার দাবিতে সরব হয়েছেন।
কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে অবশেষে মৌনতা ত্যাগ করে বিজেপি-র দফতরে পৌঁছলেন শোভন- বৈশাখী৷ আর সেখানে গিয়েই পুরোন দলকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের দাবি করে জানালেন, বিজেপি-র সিগন্যালেই নাকি তৈরি হয়েছিল তৃণমূল৷
এরপর বৈঠক শেষে তৃণমূলে ভাঙন প্রসঙ্গে শোভন বলেন, ‘তৃণমূলের এখন অবস্থা ছোট চাদরের মতো৷ পা ঢাকতে গেলে মাথা বেরিয়ে যাচ্ছে, মাথা ঢাকতে গেলে পা৷ বিজেপি-র সিগন্যালেই তো ১৯৯৮ সালের ১লা জানুয়ারি তৃণমূল তৈরি হয়েছিল৷’
প্রসঙ্গত, আজ, সোমবার কলকাতায় ফের রোড শো করার কথা শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ তাঁকে ইতিমধ্যেই বিজেপির কলকাতা সাংগঠনিক জোনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শোভন আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলকে যে নেতারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাঁরাই দলে সম্মান না পেয়ে বাধ্য হয়ে দল ছাড়ছেন৷ শোভন বলেন, ‘যাঁরা সংগ্রাম করে দলকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাঁরা কী ব্যবহার পেলেন? মুকুল রায়ের মতো নেতা দলে থাকতে পারলেন না৷ তার পরেও আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করা হয়নি৷ দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল৷ আজকে বিজেপি যে আমাদের কাজের সুযোগ দিচ্ছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ৷’
যদিও শোভনের এইরকম বিস্ফোরক মন্তব্যের পর তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূলও!
তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘এতদিন তো এই ছোট চাদর গায়ে দিয়েই ছিলেন৷ বিজেপি এখন যা বলতে বলছে, উনি তাই বলতে বাধ্য হচ্ছেন৷’





