বগটুই ঘটনা নিয়ে এখন গোটা রাজ্য উত্তাল হয়ে রয়েছে। শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব। একদিকে বিরোধীরা যখন এই ঘটনাকে গণহত্যার আখ্যা দিয়েছে, তখন অন্যদিকে শাসকদল এই ঘটনা গ্রাম্য বিবাদ বলেই চালাচ্ছে। এরই মধ্যে গতকাল, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে বগটুই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়েও শাসকদলের মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। এরই মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বিজেপির মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। খবর ২৪৭-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বগটুই কাণ্ডে আসল দোষীরা আদৌ ধরা পড়বে কী না, সে নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বালি, কয়লা, পাথর জড়িয়ে রয়েছে। আর বীরভূমে এই বালি, কয়লা, পাথরের সিন্ডিকেট কে চালাচ্ছেন, তা সকলেরই জানা। এই ঘটনায় অনেক বড় বড় মাথার জড়িয়ে রয়েছে। সিবিআই তদন্তের জের সেই বড় মাথা পর্যন্ত পৌঁছনো দরকার। তাতে যদি সময় লাগে, লাগুক, কিন্তু তা-ও আসল দোষীকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন”।
তিনি আরও বলেন, “আদালতের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে বগটুই ঘটনার রাতে গ্রামে দমকল ঢুকতে যায়। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাদের পুলিশ বাধা দেয়। এমন কথা দমকল কর্তারাই আদালতে জানিয়েছেন। আর অনুব্রত মণ্ডল যে বীরভূম পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করেন, সেটা তো নতুন কিছু”।
তাহলে কী এই ঘটনার সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলই যুক্ত? তাঁর নির্দেশেই এই সমস্ত কাণ্ড ঘটেছে। এই বিষয়ে সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলের নাম না নিলেও তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “আনারুল হোসেন, ভাদু শেখ তো বোরে মাত্র, আসল খেলা খেলছে রাজা। তাঁকে সামনে আনা দরকার। আনারুল, ভাদু এরা আগে কি ছিলেন। কীভাবে ম্যাজিকের মতো এত সম্পত্তি এল তাদের, কীভাবে এত বাড়বাড়ন্ত শুরু হল তাদের। তাদের মাথার বিশেষ কারোর হাত রয়েছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তবে সিবিআই তদন্ত শুরু হলে অনেকের মাথাতেই অক্সিজেন কম যাবে, তা আমরা বুঝেছি”।
তরুণজ্যোতির কথায়, “এটা কেবল একটা বোমা মারা নয়, আট-দশকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা নয়। এতে বালি, কয়লা, পাথর সব জড়িয়ে রয়েছে। আর সেসব নিয়ে তদন্ত করতে গেলে কাদের কাদের নাম সামনে আসবে, তা আলাদ করে বলার প্রয়োজন নেই”।





