‘দেবাংশু বাজার গরম রাখতে এসব বলছে, এত ভয় কীসের’, বগটুইকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশে দেবাংশুর মন্তব্যের প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

বগটুই গণহত্যাকাণ্ড মামলায় গতকাল, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট রায় জানিয়ে বলেছে যে এই মামলায় তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রাখা যাবে না। এই কারণে এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বগটুই ঘটনার প্রথম থেকেই সিবিআই তদন্তের দাবী করে এসেছিল বিরোধীরা। তবে আদালতের এমন নির্দেশে মোটেই খুশি নয় শাসকদল।

আদালতের নির্দেশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য টুইট করে লেখেন, “সব তদন্তই যদি সিবিআই করবে তাহলে রাজ্য সরকার রাখার মানে কি? আদালত, রাজ্যপাল এবং সিবিআই মিলেই তবে রাজ্য চালাক! নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন নেই”। এমন মন্তব্য করে আদালতের নির্দেশের রীতিমতো অবমাননা করেছেন তৃণমূল নেতা।

https://twitter.com/ItsYourDev/status/1507227379017531392

এই প্রসঙ্গে খবর ২৪x৭ তরফে সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হাইকোর্ট সিবিআইকে বগটুই কাণ্ডের তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, “মহামান্য আদালত কিন্তু প্রথমেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় নি। রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী দল সিটের উপরেই এই তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও রাজ্য পুলিশ সঠিক রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে পারে নি। এই ঘটনার যে গভীরতা, তা রাজ্য পুলিশ আদালতে তুলে ধরতে পারে নি। উপরন্তু, তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার একটা প্রবণতাও দেখা গিয়েছে রাজ্য পুলিশের মধ্যে। এই কারণেই যাতে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় ও আসল সত্যি সামনে আসে, তাই আদালত এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে”।

দেবাংশুর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেবাংশু এখন বাজার গরম করার জন্য এসব বলছে। এর আগেও তৃণমূল নেতারা যখন দল ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, সেই সময় বাজার গরম করার জন্য ও বলেছিল যে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির সামনে শুয়ে থাকবে যাতে দলত্যাগীরা ফের ফিরে না আসতে পারে। সেটা তো আর হচ্ছে না, তাই এখন বাজার গরম রাখতে এমন মন্তব্য করছে”।

দেবাংশুর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “দেবাংশুর এত ভয় কীসের? এর আগে ২০১৪ সালে নারদ কাণ্ডের জন্য সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর দেবাংশু ঠিকই বলেছে রাজ্য পুলিশের দরকার আর কই। যেখানে বগটুই কাণ্ডের এক ঘণ্টার মধ্যে অনুব্রত মণ্ডল জেনে যান যে টিভি ফেটে আগুন লেগেছিল। যেখানে রাজ্য পুলিশ আনারুল হোসেনকে এমনই সমঝে চলে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ না দিলে রাজ্য পুলিশ আনারুলকে গ্রেফতার করতেই পারে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্য পুলিশের না থাকাই ভালো। তৃণমূলের বড় বড় নেতারাই তো সবটা জানেন”।

সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই বগটুই কাণ্ডে আনারুল বা ছোটোখাটো নেতাকে গ্রেফতার করে কোনও লাভ হবে না। আসল বড় মাথাদের ধরতে হবে। তাঁর মতে, সিবিআই তদন্তের জেরে আসল সত্যি সামনে আসা সম্ভব কারণ কোর্ট মনিটর সিবিআই এই তদন্ত করছে। আগামী ৭ই এপ্রিলের মধ্যে সঠিক রিপোর্ট সিবিআই কোর্টে জমা দেবেন বলেই মত তাঁর। তবে তিনি এও জানান যে এরপরও যদি আসল দোষীদের ধরা না যায়, তাহলে পরবর্তীকালে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে যাতে সাঁড়াশির চাপে মূল দোষীরা ঠিক বেরিয়ে আসবে।

RELATED Articles