বিজেপির চিন্তন বৈঠক নিয়ে জোর চর্চা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুরভোটের ব্যর্থতার কারণ নিয়ে আলোচনা, কিন্তু উপস্থিত নেই খোদ বিরোধী দলনেতা। এই নিয়ে দলের অন্দরে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগের দিন রাতেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন যে তিনি এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। কিন্তু তিনি না আসায় এই নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা হতে শুরু করে। এদিন বৈঠকের শুরুতে ছিলেন না ভাটপাড়ার সাংসদ অর্জুন সিংও। অনেক পড়ে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এদিন বেশ অনেকদিন পর রাজ্য নেতাদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এদিন তাঁকে মঞ্চে ডাকা হয়নি।
এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, রাহুল সিনহা, অমিতাভ চক্রবর্তী, সুকান্ত মজুমদার, অমিত মালব্য উপস্থিত থাকলেও লকেটকে মঞ্চে ডাকা হয়নি। এই বৈঠকের আগে লকেট বিজেপি নেতৃত্বকে আত্মসমালোচনা করার পরামর্শ দেন। এদিনের বৈঠকে লকেট বিস্ফোরক হতে পারেন বলে আন্দাজ ছিল অনেকেরই। এই কারণেই তাঁকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাগত ভাষণে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আজ সকলে মিলে আলোচনা করেই পথ নির্দেশ ঠিক করব। উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নেই। যারা এখানে বলার সুযোগ পাবেন না, তারা পরামর্শ লিখিতভাবে দেবেন। দল টিম ওয়ার্ক। উপরের নির্দেশ মেনে চলতে হয় পার্টিতে। সব সিদ্ধান্তই যে ঠিক হবে এমন কোনও বিষয় নেই”।
এদিনের এই ভাষণেই সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, “সিপিএমকে ভোট দিয়ে বিজেপির ভোট ভাগের চেষ্টা করছে তৃণমূল। বিজেপি করলে আক্রমণ করা হচ্ছে। অথচ, সিপিএমের হয়েও ছাপ্পা করছে শাসক দল”।
সুকান্তর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব অবশ্য দিয়েছে তৃণমূলও। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “নিজেদের দিকে তাকান। আত্মসমালোচনা করুন। যারা নিজেদের ওয়ার্ড, নিজেদের বুথ রক্ষা করতে পারে না, মানুষের ভোট নিতে পারেন না, মানুষের আশীর্বাদ পান না, তাঁরা চেয়ার রক্ষার জন্য এই ধরনের গল্প শোনাচ্ছেন। বিজেপি বাংলায় অপ্রাসঙ্গিক”।
এদিকে এই বিষয় নিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি নেতারা কর্মীদের জবাব দিতে পারছেন না সুকান্তরা। প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত। তাই বস্তাপচা কথা বলছেন। জোটের গল্প সবাই জানে, বাস্তবে জোট আছে তৃণমূল ও বিজেপির”।





