“এত টাকা তো আমাদের লাগবে না”! বিধায়কের মাইনে শুনেই ভিরমি খেলেন শালতোড়ার দিনমজুর বিধায়িকা চন্দনা বাউড়ি! 

২১ শের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে নাটকের শেষ ছিলনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচুর এমন ঘটনা ঘটেছে যা চমকের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে যাঁরা জিতবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন হেরে গেছেন তাঁরা! যেমন সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়’র মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা হেরে গেছেন বিভিন্ন কেন্দ্রে। আর সেখানেই জিতে নজর কেড়েছেন বাঁকুড়ার শালতোড়ার দিনমজুরের স্ত্রী চন্দনা বাউড়ি। তাঁর জেতায় বেজায় খুশি হয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও l

এই নবনির্বাচিত বিধায়িকা কিছুদিন আগেই পড়েছিলেন এক মহা ফ্যাসাদে। একমাস পর থেকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু ভাষা সমস্যায় কেন্দ্রকে তা বুঝিয়ে উঠতে পারেননি। জানানোর পরের দিনই বাড়িতে হাজির সেন্ট্রাল ফোর্স। নুন আনতে পান্তা ফুরায় সংসারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কীভাবে নেবেন তা ভেবেই কূলকিনারা করে উঠতে পারছিলেন না তিনি। তাও কোন‌ওতে সামলে ছিলেন।

আরও পড়ুন:কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপ! তালিকায়‌ একাধিক সংসদের নাম 

এবার ফের এক নতুন সমস্যায় তিনি। বিধায়ক হিসেবে পাওয়া টাকার অঙ্ক শুনে রীতিমতো ঘাবড়ে গেছেন তিনি।  ‌ ভোটে জেতার পরে শপথ নিতে এসেছিলেন বিধানসভায়। সেটাই প্রথম বারের মতো বিধানসভা দেখা। তারপর থেকে করোনার জেরে আর কলকাতায় আসা হয়নি। ফলে এখনও পর্যন্ত বিধায়ক হিসেবে প্রাপ্য বেতন পাননি তিনি। জানেনও না প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা বেতন বা ভাতা বাবদ পাবেন। সেই অঙ্কটা শোনার পরে চন্দনার গলায় আবার অন্য ভাবনা। এত টাকা কী করে খরচ করবেন সেটাই ভেবে উঠতে পারছেন না।

চন্দনা দেবীর কথায়, ‘‘কোনও দিন এমএলএ হব তা তো ভাবিইনি। মোদীজির স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচিতে প্রথম বিজেপি অফিসে গিয়েছিলাম। তার পর থেকেই পার্টির হয়ে কাজ করছি। আমায় প্রার্থী করা হবে ভাবিইনি। সবাই চেষ্টা করেছে বলে আমি জিতে গেছি।’’

আরও পড়ুন:ত্যাগ তপস্যা ছাড়া বিজেপিতে থাকা যাবে না! ক্ষমতা ভোগ করতে চাইলে আমরাই রাখব না: দিলীপ উবাচ

এরপরই তিনি জানতে পারেন, বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ পশ্চিমবঙ্গে এক জন বিধায়ক মাসে মোটামুটি ৮২ হাজার টাকা পান। জুন মাসের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেলে যে দিন তিনি শপথ নিয়েছেন সেই দিন থেকে হিসেব করে গোটা টাকাটা জুলাইয়ের শুরুতে পাবেন। সেটা এক লাখ টাকার বেশিই হবে।আর এই রকম তথ্য জানতে পারার পর সহজ মনে তাঁর প্রশ্ন ‘‘কী করব এখনও ভাবতে পারছি না। কিন্তু মানুষের জন্য ভাল হয় এমন কিছুই করব প্রথম মাইনের টাকায়। তার পরেও মাইনের টাকা ওই কাজেই লাগাব। অত টাকা তো আমাদের লাগবে না।’’

RELATED Articles