বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ব্যাপক তৃণমূলী হামলার মুখে পড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। শুরু হয় পলায়ন। এখনও রাজ্যের বহু বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া। তাঁদের ফেরানোই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ।
আর এবার তা করতে গিয়েই আক্রান্ত হল জলপাইগুড়ির বিজেপি নেতৃত্ব। ঘরছাড়া কর্মীদের বাড়ি ফেরাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়লেন বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়-সহ দলের অন্যান্য কর্মী-সমর্থকরা। বাঁশ দিয়ে তাঁদের পেটানো হয় বলে অভিযোগ। যথারীতি এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের দিকে।
আরও পড়ুন-‘একটা মানুষ কখনও ভোট প্রচার করল না সে জিতে গেল’, মুকুলের দলবদলে প্রতিক্রিয়া ‘একসময়ের প্রতিপক্ষ’ কৌশানির
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাংসদ জয়ন্ত বাবু ও আক্রান্ত বিজেপি সমর্থকদের।
বাঁশ দিয়ে আঘাত করায় শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাত পেয়েছেন সাংসদ। দুই বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটেছে। বেশ কয়েকটি সেলাইও পড়েছে তাঁদের মাথায়। উক্ত সাংসদকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে মেডিক্যালে।
এই হামলার কথা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে দলের তরফে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি এলাকায়।
বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী অবস্থাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলা। ছড়ায় ব্যাপক হিংসা। প্রাণ ভয়ে পালান বহু বিজেপি কর্মী সমর্থক। যেমন ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে ওই জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ১৩ টি বিজেপি কর্মীদের পরিবার ঘর ছাড়া ছিল।
বাংলায় চলাকালীন হিংসার সময় তাঁরা পালিয়ে গিয়ে আমবাড়ি ফাড়ির অধীনস্ত হরেকৃষ্ণ মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন থেকে ওই খানেই ছিল ওই ১৩টি পরিবার। এদিন বিকেলে সাংসদ জয়ন্ত রায় কর্মী-সমর্থক ও পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে যান তাঁদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনতে।
কিন্তু ওই গ্রামে ঢোকা মাত্রই একদল লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতেই বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় বিজেপি সাংসদ ও গেরুয়া কর্মী সমর্থকদের ওপর। আহতদের দাবি ওই তৃণমূলী কর্মী সমর্থকরা বাঁশ হাতে নিয়ে তাঁদের ঘিরে ধরে চিৎকার করে বলতে থাকে যে, এলাকায় বিজেপি করতে দেওয়া হবে না। তারপরই চলে ঘিরে ধরে মারধর। আহত সাংসদের অভিযোগ, তাঁদের বাঁশ দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। ঘটনায় শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাত পেয়েছেন সাংসদ। এরপর কোনওক্রমে তাঁরা এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তবে মারধরের কারণে আহত হন সাংসদ-সহ বিজেপি কর্মীরা।
একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে পুলিশ।





