শাসক আমলে সাংবাদিক হেন*স্থার অভিযোগের মাঝেই বিজেপির বড় ঘোষণা! “আমরা-ওরা নয়, ক্ষমতায় এলে সব যোগ্য সাংবাদিককেই মাসে ভাতা দেওয়া হবে” জানালেন শমীক ভট্টাচার্য!

  • ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়, তবে কিছু ঘোষণা এমন হয় যা সরাসরি এক নির্দিষ্ট শ্রেণির মনোযোগ কেড়ে নেয়। বাংলার রাজনীতিতে এবার ঠিক তেমনই এক ইস্যু উঠে এল সাংবাদিকদের নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা, সুযোগ-সুবিধা এবং বিভাজন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই আবহেই হঠাৎ করে এমন এক বার্তা সামনে এল, যা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শমীক ভট্টাচার্য এক চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন। তাঁর কথায়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সমস্ত যোগ্য সাংবাদিকদের মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। শনিবার প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। “আমরা-ওরা নয়” এই বার্তা দিয়েই তিনি বোঝাতে চান, কোনও দলীয় ঘনিষ্ঠতা নয়, বরং সকল সাংবাদিকই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের মধ্যেই এক ধরনের বিভাজনের কথা বারবার উঠে এসেছে। ‘গোদি মিডিয়া’ বা বাংলায় ‘চটি’ এই শব্দগুলি এখন আর নতুন নয়। শাসকঘনিষ্ঠতা নিয়ে অভিযোগ, পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় সুযোগ-সুবিধা সীমিত কয়েকজনের মধ্যেই আটকে থাকে। তাই তাঁদের সঙ্কল্প পত্রে সাংবাদিকদের জন্য “সার্বিক সুরক্ষা”র প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে।

তবে সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ভাবনা একেবারেই নতুন নয়। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সাংবাদিকদের ট্রেন ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও এমন উদ্যোগ রয়েছে হরিয়ানায় মাসিক পেনশন, উত্তরপ্রদেশ ও অসমে বিশেষ প্রকল্প, তামিলনাড়ুতেও কল্যাণ তহবিল চালু আছে। ফলে এই ঘোষণা রাজনৈতিক দিক থেকে নতুন হলেও ধারণাটা আগে থেকেই প্রচলিত।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ভোটে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ! সংখ্যালঘু উন্নয়নের ইস্তেহার নিয়ে নতুন লড়াই, বাংলার রাজনীতিতে কি বদলাবে খেলার নিয়ম, নাকি প্রভাব থাকবে সীমিত?

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক সহানুভূতি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে। যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে নতুন প্রকল্প আনা হয়েছে, তেমনই সাংবাদিকদের জন্য এই ভাতা বুদ্ধিজীবী ও সচেতন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে। শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, “এটা তৃণমূলের সরকার ছিল, পশ্চিমবঙ্গের নয়।” এখন দেখার, এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং সাংবাদিক মহলে এর প্রতিক্রিয়া কোন দিকে যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles