রাজনীতির ময়দানে মাঝে মধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা ইতিহাসের পাতাকে যেন নতুন করে উল্টে দেয়। ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। বহুদিন ধরে অচেনা, প্রায় বিস্মৃত এক রাজনৈতিক নাম আবার শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে, কী সেই দল, কী তাদের লক্ষ্য, আর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তারা?
যে দলের কথা এখন আলোচনায়, তার শিকড় বহু পুরনো। দেশভাগের আগের সময়ে মহম্মদ আলি জিন্না-র নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ। স্বাধীনতার পর পরিস্থিতি বদলায়, দেশভাগ হয়, আর সেই সংগঠনও ভেঙে যায়। পরে ভারতে থেকে যাওয়া নেতারা ১৯৪৮ সালে নতুনভাবে গড়ে তোলেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ভারতে, বিশেষত কেরলে, এই দলের উপস্থিতি থাকলেও বাংলায় তাদের সক্রিয়তা খুবই সীমিত ছিল।
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চিত্রটা বদলাচ্ছে। এবার দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মেটিয়াবুরুজ ও কালিয়াগঞ্জে প্রার্থী দিচ্ছে এই দল। গত কয়েকটি নির্বাচনে তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকলেও এবার ফের লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২১ সালে তারা কোনও আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, আর তার আগে ২০১৬ সালে শেষবার ভোটে অংশ নিয়েছিল। ফলে এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম গাজির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে দলের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নই তাদের ইস্তেহারের প্রধান ফোকাস। কেরলে তাদের চারজন সাংসদ রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন, যা দলীয় শক্তির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাতেও সেই সংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ “উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে এই পুরনো নাম কি নতুন করে ভোটের সমীকরণ বদলাতে পারবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত পরিসরে হলেও এই ধরনের দলগুলি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর, সেখানে এই লড়াই নজর কেড়েছে। এখন দেখার, ইতিহাসের উত্তরাধিকার নিয়ে মাঠে নামা এই দল বাস্তবে কতটা ছাপ ফেলতে পারে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!