রাজনীতির ময়দানে এমন চিত্র আগেও দেখা গিয়েছে। টোটো নিয়ে পুরভোটের প্রচার চালাচ্ছেন এক যুবক। অন্য কারোর জন্য নয়, বরং নিজের জন্যই। আসানসোল পুরসভার ১০৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এবার বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে ওই টোটোচালককেই।
পেশায় টোটোচালক ওই যুবকের নাম তারকনাথ ধীবর ওরফে গোবিন্দ। তিনি হাতিনলের বাসিন্দা। অন্যান্য প্রার্থীরা যেমন করোনা বিধিনিষেধ না মেনেই প্রচার চালাচ্ছেন, তারকনাথ তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম। ভোট প্রচারের জন্য তাঁর একমাত্র সঙ্গী তাঁর টোটো। মাঝেসাঝে সর্বোচ্চ ৫ জন লোক থাকে তাঁর সঙ্গে। এভাবেই টোটো নিয়ে অলিগলি ঘরে মানুষের বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন তারকনাথ।
ওই বিজেপি প্রার্থী বলেন, “দল আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে তাই আমি অত্যন্ত খুশি৷ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। আমি নিজেও গরীব ঘরের, তাই মানুষের দুঃখ কষ্ট গুলো বুঝে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারব। আশা করছি মানুষ আমার উপর ভরসা রাখবেন”।
ইতিমধ্যেই তারকনাথের উপর ভরসা জন্মেছে এলাকার বাসিন্দাদের। তাদের দাবী, তারকনাথ অত্যন্ত ভালো ছেলে। মানুষের বিপদে সবসময় পাশে দাঁড়ান তিনি। এবার তিনি ভোটের প্রার্থী হয়েছেন। তাই তিনি জিতলে যে এলাকাবাসী তাঁকে তাদের বিপদে-আপদে পাশে পাবে, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “আমাদের এখানে গোবিন্দকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই ব্যাপারে আমরা ভীষণই খুশি। খুব কষ্ট করে অতি সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করেন তিনি। তাই তিনি কাউন্সিলর হলে মানুষের জন্য কাজ করবেন”।
তারকনাথ জানান তাঁর মাসিক আয় ৪ হাজার টাকা। যে টোটোটি তিনি চালান, সেটিও তাঁর নিজের নয়। এর জন্য ভাড়া বাবদ মালিককে রোজ ২৫০ টাকা দিতে হয়। তবে ভোটের প্রচারের জন্য খরচ বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা। তবে এই টাকাটা দলই মেটাচ্ছে বলে জানান তারকনাথ। পুরভোটে এবার এলাকার অনুন্নয়নকে হাতিয়ার বানিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে টক্কর দেবে বিজেপি।
বলে রাখি, কিছুদিন আগেই তারকনাথের হয়ে ভোটের প্রচার করতে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে যান শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। তিনি নিজেও একজন অনগ্রসর জাতিরই প্রতিনিধি। চন্দনা বলেন, “মানুষের আশীর্বাদে আমার মতো দাদাও এবার ঠিক জিতবেই”।
এদিনের এই ভোট প্রচারে বাবুল সুপ্রিয়র গাওয়া মমতাবিরোধী গান বাজানো নিয়ে অবশ্য কিছুটা বিতর্ক ওঠে রাজনৈতিক মহলে। কারণ বাবুল সুপ্রিয় এখন নিজেই তৃণমূলে। তবে পুরভোটের জন্য আসানসোল পুরনিগমের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রধান হাতিয়ার যে তারকনাথ, তা তো বলাই বাহুল্য।





