ফের যেন ফিরল দু’বছর আগেকার স্মৃতি। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ফের উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান (Jai Shri Ram slogan)। আজ, শুক্রবার হাওড়া স্টেশনে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর (Vande Bharat Express) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুরুর আগেই যেন কাটল তাল। মায়ের প্রয়াণের কারণে এদিন সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তবে ভারচুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। কিন্তু এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখেই অনুষ্ঠান সূচনার আগে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। এর জেরে বেশ চোটে যান মুখ্যমন্ত্রী। রেগেমেগে মঞ্চেই উঠলেন না তিনি।
আজ, শুক্রবার বাংলায় প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করল। সেই উপলক্ষে রেলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু মায়ের প্রয়াণে গান্ধীনগরে চলে যেতে হয় তাঁকে। মায়ের শেষকৃত্যের পর নির্ধারিত সময়েই এদিন ভারচুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোদী। যোগ দেন হাওড়া স্টেশনের কর্মসূচিতে। এদিকে, হাওড়া স্টেশনে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রেলমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব-সহ, বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক-সহ একাধিক নেতা, মন্ত্রীরা।
এদিন অনুষ্ঠানে পৌঁছতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়। আর এর জেরেই প্রবল চোটে যান মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার পরেই মঞ্চে উঠতেই অস্বীকার করেন তিনি। বন্দে ভারতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে ওঠেননি। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং সাংসদ সুভাষ সরকার।
এই ঘটনার কারণে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব হাত জোড় করে ক্ষমা চান। কিন্তু অনেক বোঝানোর পরও মঞ্চে উঠতে রাজি হন নি মমতা। মঞ্চের পাশে আমলাদের জন্য তৈরি আসনেই বসেন তিনি। সেখান থেকেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি।
এদিন বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর মা প্রয়াত হওয়ায় মোদীকে সমবেদনা জানান মমতা। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাই অনুষ্ঠান ছোট করার অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছিল। আজ সেই ট্রেন উদ্বোধন হওয়ায় আমি খুশি। আমি জানি না কী ভাবে আপনার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাব। আপনার মা মানে আমাদেরও মা। আমার মায়ের কথাও মনে পড়ছে আজ”।





