মধ্যরাতে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অশোকনগরের সেনডাঙা এলাকায়। ঘটনায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে শাসকদলকে। অভিযোগ, বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ বাড়িতে এই বোমাবাজি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, অশোকনগরে সেনডাঙা বাজার এলাকায় গতকাল, রবিবার রাতে বোমাবাজি হয়। ওই এলাকারই দুই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমা ফেলা হয়। ওই বাড়ির মালিকের কথায়, পরপর তিনটি বোমা ছোঁড়া হয়, এর মধ্যে তিনটি ফাটে।
আরও পড়ুন- ‘বাবুল স্টার, সাংসদ, ওঁ কখনও বিজেপির হতে পারেনি’, অবশেষে বাবুলের দলবদল নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির লোকেরা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর শুতে চলে যান। হঠাৎই এক বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে তাদের। প্রথমে বুঝতে পারেন নি তবে ফের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফের বোমা পড়ে। বাড়ির দেওয়ালে বোমার চিহ্ন স্পষ্ট। এর পাশের বাড়িতেও হয় বোমাবাজি। ওই ব্যক্তিও এলাকায় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত।
এদিন বোমাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলকেই অভিযুক্ত করেছেন। আক্রান্তদের পরিবারের মতে, বিজেপি করার জন্যি এই বোমাবাজি হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ নাকোচ করে দিয়েছে তৃণমূল।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দাবী, “প্রথমে আমার পাশের বাড়িতে বোমা ফেটেছিল। আওয়াজটা আমরাও শুনতে পাই। ওটা আমার দেওরের বাড়ি। ও ফোন করে আমাদের বলল। আমি জানলার সামনেটায় যাচ্ছিলাম। তখনই আরেকটা বোমা পড়ল”।
এই ঘটনায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মী বলেন “রাত তখন দুটো পড়ে। একটা আওয়াজ পেয়েছিলাম। আমার ভাই ফোন করে বলল দাদা বোমা পড়েছে। ফোনটা পেয়ে যখন ঘর থেকে বেরোচ্ছিলাম, তখন দেখি আমার বাড়িতে বোমা পড়ছে। বাবা-আমরা তখন ঘর বেরোই। চিত্কার চেঁচামেচি করায় ওরা ওদিকে চলে যায়। ওখানে মায়ের ঘরের পিছন দিকে ভাঙচুর চালায়। আসবাবপত্র, টিনের চাল ভাঙচুর চালায়”।
কাদের যোগসাজশ থাকতে পারে এই ঘটনায়? আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর মতে, “আমার তো এলাকায় কোনও শত্রুতা নেই। আমি কারোর সঙ্গে কোনও ঝামেলায় যাই না। যদি আমার কোনও অপরাধ হয়ে থাকে, সেটা হল আমি বিজেপি করি। তার জন্য এলাকায় কিছু দুষ্কৃতী এমন করছে। কয়েকদিন আগেও এলাকায় বোমাবাজি হয়েছে”।
আরও পড়ুন- পার্থর পর এবার মানস ভুঁইয়া, আইকোর মামলায় তৃণমূল বিধায়ককে তলব সিবিআইয়ের
তবে বোমাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের বারাসত জেলা সভাপতি অশনী মুখোপাধ্যায়ের তরফে। তিনি বলেন, “এলাকায় বোমাবাজির কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওখানে কেউ বা কারা নিজেদের মতো করে বোমা রেখে গিয়েছিল, সেটাকেই বোমাবাজির ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে”।





