শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে তদন্ত করার সময় কুন্তল ঘোষের (Kuntal Ghosh) ব্যাঙ্ক নথিতে মেলে টলি অভিনেতা বনি সেনগুপ্তের (Bonny Sengupta) নাম। সেই অনুযায়ী তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা (Enforcement Directorate)। কুন্তলের থেকে টাকা নিয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছিলেন অভিনেতা। এবার ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সেই গাড়ির ৪০ লক্ষ টাকা ইডি-কে ডিমান্ড ড্রাফ্ট করে ফেরত দিলেন বনি।
গত বৃহস্পতিবার ইডি-র তরফে প্রথমবার ডেকে পাঠানো হয়েছিল বনিকে। দু’দফায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেরা করা হয় তাঁকে। প্রথম দফার জেরার পর ঠিকঠাকই দেখাচ্ছিল তাঁকে। তিনি চাপের মধ্যে রয়েছেন, তা বিশেষ বোঝা যায়নি। তবে দ্বিতীয় দফার জেরার পর ভেঙে পড়েছিলেন বনি, তেমনটাই জানা গিয়েছে। কুন্তলের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে সাংবাদিকদের বনি জানিয়েছিলেন যে কুন্তল ঘোষ তাকে ৪০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তবে সেই টাকা দিয়ে তিনি গাড়ি কেনেন। বনি জানান যে কোনও লিখিত চুক্তি ছিল না। কুন্তলের কাছে মৌখিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন বনি যে দুটি ছবিতে বিনা পারিশ্রমিকে তিনি কাজ করবেন। তবে পরে সেই ছবি হয়নি।
সেই কারণে কুন্তলের আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বনি। আর এভাবেই সেই অর্থের ঋণ মিটিয়েছিলেন অভিনেতা। ইডি-র কাছেও এমনটাই দাবী করেছিলেন তিনি। তবে কুন্তলের সঙ্গে তাঁর যে চুক্তি হয়েছিল, সেসবের কোনও প্রমাণ তদন্তকারীদের দেখাতে পারেন নি বনি। তিনি ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছিলেন যে ওই গাড়ির টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন তিনি।
তবে কীভাবে সেই টাকা ফেরাবেন আর কীভাবেই বা টাকা জোগাড় হবে, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন অভিনেতা। আর এই গোটা পরিস্থিতির চাপে পড়ে সেই সময় ইডি আধিকারিকদের সামনে কেঁদেও ফেলেন বনি, এমনটাই খবর সূত্রের।
গত মঙ্গলবার তাঁকে দ্বিতীয়বার তলব করেছিল ইডি। সেই সময় তাঁর সেই গাড়ি ও টাকার নথিপত্র নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় সাংবাদিকদের সামনে কিছু বলেন নি বনি। তবে শেষমেশ গতকাল, বৃহস্পতিবার ডিমান্ড ড্রাফটে ইডি-কে গাড়ির টাকা ফিরিয়ে দিলেন অভিনেতা।





