West Bengal SIR : “বাংলাদেশি ভোটারেই ভরছে তালিকা!”—কাকাশ্বশুরকে বাবা, পড়শিকে মা সাজিয়ে কার্ড বানানোয় উত্তাল টাকি–বনগাঁ, বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগে চাপের মুখে তৃণমূল!

এসআইআর(SIR) শুরু হতেই সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় অদ্ভুত সব তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগে মিলছে একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা। কোথাও নাকি পড়শি বৃদ্ধাকে ‘মা’ সাজানো হয়েছে, আবার কোথাও কাকাশ্বশুরকে দেখানো হয়েছে ‘বাবা’ হিসাবে। বহু মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে—কেউ নাকি ভারত এবং বাংলাদেশ—দুই দেশেরই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।প্রথমে গুজব মনে হলেও, দিন যত এগোচ্ছে, প্রশাসনের দরজায় তত বাড়ছে অভিযোগের সংখ্যা।

আলোচনায় উঠে আসে টাকি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কুলুপাড়ার ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, রফিউল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশের বাসিন্দা। অভিযোগ, তিনি এ দেশে বিয়ে করেন এবং তারপর তাঁর কাকাশ্বশুর আবদুল আমিন মণ্ডলের নামকেই নিজের বাবার নাম হিসেবে দেখিয়ে ভোটার কার্ড ও আধার তৈরি করেন। মৃত আবদুল আমিনের পরিবারও এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর বৌমা মরিয়ম বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন—“রফিউলের সঙ্গে বাবার কোনও সম্পর্কই ছিল না। ভোটার কার্ডে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে আমাদের শ্বশুরকে। অবিলম্বে নাম কেটে দেওয়া হোক।”

এই ঘটনার পরই এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব সরব হয়েছেন। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যের অভিযোগ—“তৃণমূলের সাংগঠনিক আশ্রয়েই এমন ভুয়ো ভোটারেরা সাহস পাচ্ছে। এদের নাম কেটে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত।” যদিও অভিযোগ ওঠা রফিউল বা তাঁর পরিবারের কাউকে এলাকায় সেদিন দেখা যায়নি।

এদিকে কেবল টাকিই নয়, নৈহাটির মামুদপুরের সুভাষপল্লিতেও মিলেছে আরও চাঞ্চল্যকর খবর। অভিযোগ, লিটন দাস নামে এক ব্যক্তির নাকি ভারত এবং বাংলাদেশ—দুই দেশেরই ভোটার কার্ড রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি—লিটন, তাঁর বাবা–মা—সবাই বাংলাদেশের খুলনায় ভোটার, আবার এখানকার ১০ নম্বর সংসদের তালিকাতেও নাম রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই তিনি ভোট দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। লিটন দাবি করেছেন—“দু’দেশেই পূর্বপুরুষের জায়গা আছে।” তবে তিনি কীভাবে আসলেন, কীভাবে ভোটার হলেন—এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ FIR Against Sonia-Rahul Gandhi: গান্ধী পরিবারের ফের বিপদ! ইয়ং ইন্ডিয়ান–এজিএল লেনদেনে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ, সনিয়া–রাহুলসহ ৮ জনকে নিশানা করল ইকোনমিক অফেন্স উইং!

অন্যদিকে বনগাঁর ঢাকাপাড়ায় অভিযোগ উঠেছে—প্রতিবেশী ভুলি বিশ্বাসকে ‘মা’ দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন অনুপ এবং চম্পা বিশ্বাস নামে দুই ভাই–বোন। বিষয়টি জানার পরেই ভুলি বিশ্বাস এসডিও ও বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম জানিয়েছেন—“অবৈধ কেউ থাকলে নির্বাচন কমিশনই ব্যবস্থা নেবে।”

এসআইআরের আবহে একের পর এক এমন অভিযোগ সামনে আসায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে—সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে, প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles