কলকাতার ব্যস্ত ইএম বাইপাস। সন্ধ্যার পরেও যেখানে আলো আর মানুষের ভিড় থাকে, সেই পথেই শুক্রবার রাতে ঘটল এমন এক ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাতের অপেক্ষায় থাকা এক তরুণীর উপর নেমে আসে অকল্পনীয় নির্যাতন। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র বলছে, তরুণীর দেওয়া বয়ানে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ তদন্তে জানার চেষ্টা করছে কীভাবে ঘটনাটি ঘটল। তরুণী জানিয়েছেন, তিনি পূর্ব কলকাতার বাসিন্দা, বয়স ২৮। শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ প্রগতি ময়দান থানার অন্তর্গত ইএম বাইপাসের এক বাসস্ট্যান্ডে বাড়ি ফেরার গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেসময় একটি গাড়ি সেখানে এসে থামে। গাড়ির মধ্যে তিনজন ছিল এবং তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর পূর্ব পরিচিত—যার সঙ্গে গত তিন মাস ধরে তাঁর কথা হচ্ছিল। সেই পরিচিতির সূত্রই পরে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, গাড়ি দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে জোর করে ঠেলে ভেতরে তোলা হয়। এরপরই তাঁকে মাদকজাতীয় কিছু খাইয়ে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণী জানিয়েছেন, তিনজন মিলেই তাঁকে নির্যাতন করে। অসহায় অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তাঁকে ময়দান এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। ওই অবস্থায় স্থানীয় মানুষজন তাঁকে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গোপন বয়ান নেয় পুলিশ। সেখান থেকেই তদন্ত শুরু হয়। হাসপাতালের ডাক্তাররা পুলিশকে জানান, তরুণীর শারীরিক অবস্থা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও স্থিতিশীল। এর পরই তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : “বাংলাদেশি ভোটারেই ভরছে তালিকা!”—কাকাশ্বশুরকে বাবা, পড়শিকে মা সাজিয়ে কার্ড বানানোয় উত্তাল টাকি–বনগাঁ, বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগে চাপের মুখে তৃণমূল!
তদন্তে নেমে পুলিশ গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে আলতাফ আলম নামে ২৪ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। তিনি গার্ডেনরিচেরই বাসিন্দা। পুলিশের অনুমান, তিনিই প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ মনে করছে, পরিচিতির সুযোগ নিয়েই তরুণীকে ফাঁদে ফেলে এভাবে নির্যাতন করা হয়।





