FIR Against Sonia-Rahul Gandhi: গান্ধী পরিবারের ফের বিপদ! ইয়ং ইন্ডিয়ান–এজিএল লেনদেনে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ, সনিয়া–রাহুলসহ ৮ জনকে নিশানা করল ইকোনমিক অফেন্স উইং!

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা আবারও চর্চার কেন্দ্রে। কয়েক বছর ধরেই মামলাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে—আর্থিক অনিয়ম, কোম্পানির মালিকানা বদল, আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি কখনওই আলোচনা থেকে সরে যায়নি। সেই পুরনো বিতর্কই ফের নতুন মাত্রা পেল যখন নয়া এফআইআর দায়ের করল দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্স উইং। রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলির দাবি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। এবার সেই দিকেই নজর দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। জানা যাচ্ছে, সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে বেআইনি দখল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় স্যাম পিত্রোদার নামও রয়েছে। তিনটি সংস্থাকে কেন্দ্র করে পুরো অভিযোগ—অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (AJL), ইয়ং ইন্ডিয়ান এবং ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেড।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, কলকাতার একটি শেল কোম্পানি ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ ইয়ং ইন্ডিয়ানকে ১ কোটি টাকা দেয়। আর সেই ইয়ং ইন্ডিয়ানেরই ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক সনিয়া ও রাহুল। অভিযোগ, এজিএলের ঋণ শোধের নাম করে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কংগ্রেসের কাছ থেকে এজিএলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইয়ং ইন্ডিয়ান। তদন্তকারীদের হিসেব বলছে, সেই সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ইডির প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই অক্টোবর মাসে এই এফআইআর নথিভুক্ত হয়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা মন্তব্য করেন—গান্ধী পরিবারই দেশের ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার’, এবং পদক্ষেপ নিলেই তারা ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলে। অন্যদিকে কংগ্রেস শিবির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করছে। দলের নেতারা বলছেন, তদন্তের নামে বিরোধীদের চাপে রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ GDP of India: IMF–এর ধাক্কা! জিডিপি তথ্য ‘ত্রুটিপূর্ণ’? C গ্রেড পেয়ে কোণঠাসা কেন্দ্র, তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের!

২০১২ সালে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, ইয়ং ইন্ডিয়ান বেআইনিভাবে এজিএলের অধিগ্রহণ করেছে। এরপরই ইডি তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন সময়ে সনিয়া ও রাহুলকে তলব করা হয়। ২০০৮ থেকে ২০২৪—এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল হেরাল্ডের আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির তথ্য পেয়েছে বলে দাবি ইডির। নতুন এফআইআর সেই পুরনো তদন্তকেই আরও জটিল করে তুলল।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles