চাকরি শব্দটা যেন একটা স্বপ্নের নাম। এক টুকরো নিশ্চিন্ত জীবনের আশ্বাস। পড়াশোনা শেষ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সেই স্বপ্নের পেছনে ছোটে হাজার হাজার যুবক-যুবতী। কেউ পায়, কেউ পায় না। তবে সবচেয়ে বড় আঘাতটা তখনই লাগে, যখন মেধা থাকা সত্ত্বেও সিস্টেমের ফাঁকে হারিয়ে যায় যোগ্যতার মর্যাদা। কেউ হয়তো পরীক্ষায় পাশ করেও চাকরি পান না, আবার কেউ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়েও ফিরে আসেন খালি হাতে। আর ঠিক সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে একটাই নাম এখন ট্রেন্ডিং — এসএসসি (SSC)।
একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তালিকা প্রকাশ নিয়ে অস্পষ্টতা, আদালতের নির্দেশ, চাকরি বাতিল, আন্দোলন — এই শব্দগুলো আজ পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিবারের নিত্যসঙ্গী। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) চাকরির তালিকা নিয়ে হইচই কম হয়নি। কখনও আদালতের দরজা, কখনও রাস্তায় ধর্না, আবার কখনও অনশন — চাকরিপ্রার্থীদের লড়াই অব্যাহত। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েনের মাঝে আশার আলো দেখাতে এগিয়ে এল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
বিকাশ ভবনের ভিতরে আজ দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে চলল সেই প্রতীক্ষিত বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন SSC-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। সূত্রের খবর, চাকরিহারাদের একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে চলেছে বিস্তারিত আলোচনা। বৈঠকে উঠে এসেছে SSC-এর ‘রিভিউ পিটিশন’-এর প্রসঙ্গও। অর্থাৎ কমিশন এবার সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের এক বড় অভিযোগ, মিরর ইমেজ প্রকাশ না করা। এ প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, আইনি অনুমতি মিললেই মিরর ইমেজ প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আশ্বাস দিয়েছেন, SSC যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক তালিকা প্রকাশ করবে খুব শীঘ্রই। ফলে আর ধোঁয়াশা থাকবে না কার চাকরি থাকবে, কার চাকরি যাবে। শুধু তাই নয়, বেতন নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। সূত্রের দাবি, ব্রাত্য বসু চাকরিহারাদের আন্দোলন থেকে সরে এসে আলোচনার পথে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ SSC Teacher Protest: পদ আঁকড়েও রক্ষা পেল না! চাকরিহারা শিক্ষকদের উপর লাথি-ঘুষির অভিযোগে তদন্তের দায়িত্ব খোয়ালেন কসবার SI রিটন দাস!
বাইরে তখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন হাজার হাজার চাকরিহারা। বিকাশ ভবনের সামনে বসে থাকা প্রার্থীদের চোখেমুখে শুধুই একটা প্রশ্ন — “আমাদের চাকরি কি ফিরবে?” সেই উত্তরের সন্ধানেই এগোচ্ছে সরকার ও কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ। এখন দেখার, শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। আপাতত আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছে গোটা রাজ্য।





