বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। গত শুক্রবারই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে ভোট প্রার্থনা করছে জনগণের থেকে। তবে এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেওয়ার জন্য বামেদের কাছে মিনতি করলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
এদিন বাঁকুড়ায় সভা করেন ব্রাত্য বসু। আর জঙ্গলমহলে যে বিজেপি আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা বেশ ভাবিয়ে তুলেছে শাসকদলকে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন তার প্রমাণ। সেই সময় বিজেপি এখানে ভালো ফল করেছিল। তাই বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভা এলাকার ইন্দুপুরে পদযাত্রা করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সরাসরি বামেদের আহ্বান দেন যে তারা যাতে ঘাসফুলেই ভোট দেন।
আরও পড়ুন- বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে আব্বাস সিদ্দিকির জোটকে বিষাক্ত শক্তি বলে কটাক্ষ বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যের
গত লোকসভা ভোটে এই এলাকায় বিজেপির রমরমা দেখা যায়। বিজেপি ভোট বাড়ে ও বামেদের ভোট কমে। অর্থাৎ, বামদের ভোট যায় রামে। তা না হলে বিজেপি বাংলায় ১৮টি আসন পেত না বলেই মনে করছে অনেকে। তাই সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তাই বামদের কাছে ভোট প্রার্থনা করলেন তৃণমূল নেতা। ব্রাত্য বসু বলেন, “যদি বামপন্থী হন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিন। তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দিন। তা না হলে নিজের দলকেই ভোট দিন। দয়া করে ভোট ট্র্যান্সফার করবেন না”। বামেদের ভোট যাতে রামে না যায় সেই কারণেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, পরিসংখ্যান বলছে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা পায় ২০ শতাংশ ভোট আর ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তারা পায় ৭ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ ভোট যে ট্র্যান্সফার হয়েছে, তা স্পষ্ট। এই কারণেই বিজেপির ভোট পৌঁছে যায় ৪০ শতাংশে, যা শাসকদলের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়।
আরও পড়ুন- শুরু হয়েছে খেলা, ভোটের আগেই সারদাকাণ্ডে কুণালকে তলব ইডির!!!
এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন যে সিপিএমকে নাকি বিজেপি টাকা দিয়েছে ভোট দেওয়ার জন্য। এই বোঝাপড়াতেই তাদের ভোট বেড়েছিল, এও বলেন মমতা। তবে এই কথার মধ্যে কতটা যুক্তি ও সত্যতা রয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যে গত লোকসভা ভোটে সিপিএমের অনেকেই বিজেপিতে যোগ না দিলেও তাদের সাহায্য করেছিল। এবার তাদের দলে নেওয়ার সময় এসেছে। তবে এবার ফের একবার দেখার পালা যে বামেরা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। বিধানসভা নির্বাচনে কোন দল ‘খেলা’ দেখায়, তা তো ২রা মে-ই দেখা যাবে।





