রাজ্যের বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ বছরে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নিয়ে যাতে ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, তাই কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি করেছিলেন বিপ্লব কুমার চৌধুরী নামের এক জনৈক মামলাকারী। এরপর রাজ্যের ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর সম্পত্তির হিসেব খতিয়ে দেখতে ইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। আর এই নেতা-মন্ত্রীদের মধ্যে নাম রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুরও।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর দাবী, তাক্র সম্পত্তির পরিমাণ কোনওভাবেই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়নি। তিনি জোর গলায় এও বলেব যে এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। গত সোমবার এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই দাবী জানালেন ব্রাত্য বসু।
তাঁর কথায়, “আদালতের রায় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আমি তিনবার হলফনামা জমা দিয়েছি। তাতে সম্পত্তির হিসেবে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো”। যে ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর সম্পত্তি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ, তাদের মধ্যে নাম রয়েছে ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মলয় ঘটক, গৌতম দেব, অরূপ রায়, শিউলি সাহা প্রমুখ নেতা মন্ত্রীর। এছাড়াও নাম রয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, ইকবাল আহমেদ, স্বর্ণ কমল সাহা, জাভেদ আহমেদ খান, রাজ্জাক মোল্লা, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রয়েছে রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুরও নাম।
আদালতে করা মামলায় দাবী করা হয়েছে যে এই সমস্ত নেতাদের সম্পত্তি ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এই নেতারা নিজেদের সম্পত্তির হিসাব জমা করেছিলেন। সেই নথিকেই হাতিয়ার করে এই মামলা করা হয়।
মামলাকারী জানান, ২০১১ সালে শিক্ষামন্ত্রীর আইকর রিটার্নস ছিল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫২৩ টাক। কিন্তু ২০১৬ সালে তা কমে হয়েছে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৫০ টাক। অভিযোগ, ২০১১ সালের থেকে ২০১৬ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রাত্যর স্ত্রীর আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০০ শতাংশ। তাঁর স্ত্রীয়ের অস্থাবর সম্পত্তি ৩৮২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।






