জয় শ্রীরাম, এই দুটো শব্দ এখন ঘাসফুল শিবিরের কাছে অন্যতম আতঙ্কের কারণ। ভগবান রামের নাম শুনলেই কেন তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা ভয় পান তা ভগবান রামই জানেন। শুধুমাত্র এই স্লোগান শুনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতাজি জন্ম জয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বক্তৃতা না দিয়ে নেমে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার মমতার দলের মন্ত্রীই যে প্রকাশ্যে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে ফেললেন। সেই শুনে মঞ্চে উপস্থিত বাকি তৃণমূল সদস্যরা তখন এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন।
শুক্রবার নদীয়ার বীরনগরে বিজেপিকে হারানোর ডাক দিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলেছেন ব্রাত্য বসু। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্র সহ দলেন অন্যান্য নেতারা।ব্রাত্য বসুর এই কাজ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। বিজেপিও মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে।
তবে ব্রাত্য বসু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “জয় শ্রীরাম কারোর একার সম্পত্তি নয়৷ বিজেপি যাই বলুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার মুখ্যমন্ত্রী৷জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনলে মমতা রাগ করেন না৷ মিডিয়া এটা ভুলভাবে প্রচার করে৷”
আরও পড়ুন – বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ
কিন্তু বাস্তব যে অন্য কথা বলছে। ২৩শে জানুয়ারি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে নেতাজির ১২৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জয় শ্রী রাম স্লোগান শুনে অপমানিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বক্তৃতা না দিয়েই তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন।সরকারি অনুষ্ঠানকে বিজেপির একচেটিয়া বলে দাগিয়ে দেন।
আরও পড়ুন – প্রায় ৫০ জন পরিচিত তৃণমূল বিধায়ক আসছেন বিজেপিতে! সাফ জানালেন অর্জুন সিং
জয় শ্রীরাম শুনলেই মমতার এই ক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়াকে কটাক্ষ করছেন নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ সকলেই। তৃণমূলের বক্তব্য, জয় শ্রীরাম ধ্বনিটি বহিরাগত!আর এখানেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তুলছেন প্রশ্ন। বেগতিক দেখে তৃণমূল এখন সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে জয় শ্রীরামে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো জয় শ্রীরাম শুনলে রাগ করেন না কিন্তু বাস্তবে তৃণমূলে সুপ্রিমো কিন্তু এই দুটো শব্দ শুনলেই বেজায় রেগে যাচ্ছেন। এই দুটো শব্দ নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে এখন চলছে বিস্তর জল্পনা কল্পনা।





