‘উনি যা বলেছেন সব মিথ্যা, ভয় দেখানো নয়, মানুষের রক্ষা করাই আমাদের কাজ’, মমতার অভিযোগের কড়া জবাব দিল বিএসএফ

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভোট প্রচারের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল, সোমবার কোচবিহারের চান্দামারিতে জনসভা করেন তিনি। এদিনের সভায় প্রথমেই বিএসএফ-কে আক্রমণ শানান মমতা। ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর এই অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিবৃতি জারি করে বিএসএফ জানায়, মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন সবটা অসত্য।

গতকালের জনসভায় মমতা বলেন, “আমার কাছে খবর আছে, বিএসএফ আপনাদের ভয় দেখাবে ইলেকশনের সময়। বলবে তুলে নেব, সিবিআই লাগাব, ইডি লাগাব– এই সব। কিন্তু ভয় দেখালে কমপ্লেন করবেন। এটা রাজ্য সরকারের ল অ্যান্ড অর্ডারের মধ্যে পড়ে। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের আন্ডারে পড়ে না”।

সম্প্রতি কোচবিহার থেকে একাধিকবার নানান অভিযোগ উঠে এসেছে। বিএসএফের গুলিতে মানুষের মৃত্যুর খবরও শোনা গিয়েছে। সেই নিয়েই এদিন সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের সীমান্তের ভোটের উপর তৃণমূল অনেকটাই নির্ভরশীল। এর আগে বিএসএফের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। আর এবার আক্রমণ করলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিন কোচবিহার বাংলা-সীমান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই পরিবারকে মঞ্চে ডাকেন মমতা। একুশের ভোটে শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। বলেন, “কোচবিহারে গুলি করে মারাটা যেন অধিকারে পরিণত করেছে। একা করবে দেশ শাসন? ভোটের সময়ে ওরা সীমান্তে গিয়ে ভয় দেখাবে। মনে রাখবেন আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। ভয় দেখালেই অভিযোগ জানাবেন। ভয়ে গুটিয়ে থাকবেন না”।

তাঁর এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই লিখিতভাবে বিবৃতি জারি করা হয় বিএসএফের তরফে। ভোটের মুখে এমন ঘটনা যে নজিরবিহীন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএসএফের তরফে বলা হয়, “ওয়েস্ট বেঙ্গলের সিএম বিএসএফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন চান্দামারি থেকে, তা ভিত্তিহীন ও অসত্য”।

এই বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “বিএসএফ একটা পেশাগত বাহিনী, যারা ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। তারা কোনও মানুষকে বা ভোটারকে প্ররোচিত করে না। বর্ডার এলাকার মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই বাহিনীর কাজ, ভয় দেখানো নয়। সীমান্তের অপরাধ ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধেও সক্রিয় তারা। বিএসএফকে ভোটের ডিউটিতেও কাজে লাগানো হয়, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমেই তারা পরিচালিত হন”।

RELATED Articles