কলকাতা (kolkata) শহর যে কখনও ঘুমোয় না। কিন্তু সেই চিরচেনা শহরের বুকে এখন নেমে এসেছে এক অজানা আতঙ্কের ছায়া। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আকস্মিক ঘটছে একের পর এক বিপজ্জনক ঘটনা। যেগুলি শুধু যে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে, তা নয়, বরং উঠছে একাধিক প্রশ্নও। শহরের বেড়ে চলা এই বিপর্যয় কি শুধুই নিয়তির খেলা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানুষের অবহেলা?
দিনের পর দিন শহরে ঘটছে এমন সব ঘটনা যা মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। কখনও পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ছে, কখনও আবার নতুন বহুতল হেলে পড়ছে। রাস্তার ওপর হঠাৎ গর্ত ধসে গাড়ি আটকে যাচ্ছে, আবার কোনও কোন ক্ষেত্রে নির্মীয়মাণ ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে নিমেষেই। শহরের নাগরিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠছেন। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে প্রশ্ন উঠছে, কলকাতার অবকাঠামো কতটা স্থিতিশীল?
এই পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকালে শহরের ট্যাংরা অঞ্চলে ঘটে গেল আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা। ক্রিস্টোফার রোডে নির্মীয়মাণ একটি বহুতল হেলে পড়ল পাশের বাড়ির উপর। ভোরবেলায় এই ঘটনার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহুতলটির নিচে কেউ না থাকলেও, বাড়ির রাজমিস্ত্রিরা ভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছেন। এই ঘটনায় উঠে আসছে প্রোমোটিং সংস্থার গাফিলতি ও কলকাতা পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়ার ত্রুটি।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের সময় কোনও নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। পাশের বাড়িগুলির সঙ্গে ন্যূনতম দূরত্ব রাখার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। মাটি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও অবহেলা করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই বহুতল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হল? শহরের নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবার এমন ঘটনার পর প্রশাসনের তরফ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে না, তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ শীতের ছন্দপতন! উত্তরবঙ্গে তুষারপাত! দক্ষিণে কুয়াশার দাপট! পশ্চিমি ঝঞ্ঝায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস!
কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার বাড়িটি হেলে পড়ার খবর পাওয়া মাত্রই ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হয়েছিল। তবে রিপোর্টে উদ্বেগজনক কিছু না পাওয়া গেলেও, নজর রাখছেন ইঞ্জিনিয়াররা। তবু, শহরের নাগরিকদের মনে একটাই প্রশ্ন, কবে থামবে এই অব্যবস্থার পরিণতি? আর কবে ফিরবে কলকাতার সেই নিরাপদ চেহারা?





