বন্যাত্রাণের টাকাতেও দুর্নীতি! ত্রাণের জন্য বরাদ্দ ৫৮ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ, CAG-কে তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

২০১৭ সালে মালদহের বন্যার ত্রাণের টাকা বণ্টন নিয়ে উঠল দুর্নীতির অভিযোগ। এই বিষয়ে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ ক্যাগ-কে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ক্যাগ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ৮ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাগ্নানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে।

আদালতের নির্দেশ, ক্যাগ এই অভিযোগের তদন্ত করবে। যদি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে যে কোনও সরকারি আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারে তারা, এমনটাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও চেয়ে খতিয়ে দেখতে পারেন ক্যাগ কর্তারা। এই মামলার শুনানি রয়েছে আগামী ১২ জুন।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকা নিয়েই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রাক্তন বিধায়ক মুস্তাক আলম।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে ১২টি ব্লকের ১০২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিলি করা হয় এই টাকা। তাঁর অভিযোগ, গ্রামের প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা নিজেদের আত্মীয় পরিজনদের সেই টাকা বিলিয়ে দিয়েছেন।

এমনও অভিযোগ রয়েছে, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন যে কারা কারা সেই টাকা পাবেন। কিন্তু পরে দেখা যায় যে ক্ষতিগ্রস্তরা কেউই টাকা পান নি। সেই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলে যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি।

আরও অন্যান্য খবর