কিছুদিন আগেই বীরভূমে গিয়ে এক জনসভায় কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) ‘বাঘ’। সেই বাঘ এখন খাঁচায় রয়েছে। যেদিন বেরোবে, সেদিন সব শিয়ালরা পালাবে। ফিরহাদের সেই মন্তব্যই এবার অনুব্রতর কাল হয়ে দাঁড়াল।
আজ, শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। আর ফিরহাদের সেই ‘বাঘ’ মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই অনুব্রতর জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআই। জামিন মামলার শুনানির সময়ে সিবিআইয়ের কালীচরণ মিশ্র বলেন যে অনুব্রত মণ্ডল প্রভাবশালী। তাঁকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।
তাঁর কথায়, অনুব্রত মণ্ডল কত বড় প্রভাবশালী তা রাজ্যের এক মন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার। বীরভূমে সভা করে মন্ত্রী বলেছেন, অনুব্রত মণ্ডল হলেন বাঘ। তার মানে আদালত বুঝে দেখুক এই ব্যক্তির প্রভাব ও প্রতিপত্তি কতটা?
এদিনের শুনানিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী আরও বলেন যে সাক্ষীদের ইতিমধ্যেই হুমকি দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এমন সময় অনুব্রত যদি জেলের বাইরে বের হন, তাহলে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনুব্রত মণ্ডলের নামে কোটি কোটি টাকার বেনামী সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সেই থেকে প্রতিদিনই কোনও না কোনও তথ্য মিলছে। তদন্তের স্বার্থে অনুব্রতকে জামিন না দেওয়াই উচিত বলে দাবী করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।
অন্যদিকে, অনুব্রতর আইনজীবী এদিন জামিনের আবেদন করে বলেন যে সম্পত্তির হিসাব বা তদন্ত যা করার তো ইডি করবে, সিবিআই তা কেন করছে। অনুব্রতর আইনজীবীর দাবী, তাঁর মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে।
বলে রাখি, এদিকে আজই আবার সিবিআই জানিয়েছে যে অনুব্রতর পঞ্চম লটারি জেতার খবর মিলেছে। সেই লটারি থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ঢুকেছিল তার অ্যাকাউন্টে। এর থেকেই সন্দেহ বেড়েছে সিবিআই। তাদের অনুমান গরু পাচারের কালো টাকা এভাবেই লটারির মাধ্যমে সাদা করতেন বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’।





