২০২১ সালের ২ মে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন। সেই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে কাঁকুড়গাছি থেকে উদ্ধার হয় এক বিজেপি কর্মীর নিথর দেহ। মৃতের নাম অভিজিৎ সরকার। শহরের এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় জল্পনা। রাজনৈতিক সংঘর্ষ না কি ব্যক্তি আক্রোশ? প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সাধারণ মানুষ।
অভিজিৎ সরকারের পরিবার দাবি করে, এটি নিছক কোনও ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। পরিবারের কথায়, অভিজিৎ ছিলেন বিজেপির ট্রেড ইউনিয়নের এক সক্রিয় নেতা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হয়েছেন তিনি। যদিও স্থানীয় কিছু সূত্র বলছে, ঘটনার পেছনে আরও গভীর কোনও কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর ধাপে ধাপে সামনে আসে একাধিক তথ্য। সিবিআই পাঁচ জন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে— পাপ্পু সিংহ, রাম অরবিন্দ সিংহ, দেবু দাস, বাপি রায় এবং সঞ্জয় সরকার। এদের ধরিয়ে দিতে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পাপ্পু ও রাম অরবিন্দ সিংহকে কেষ্টপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন নাম উঠে আসে বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পালের। সূত্রের খবর, তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করে সিবিআই। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার (৫৮ নম্বর ওয়ার্ড) এবং পাপিয়া ঘোষ (৩০ নম্বর ওয়ার্ড)-এর নামও তদন্তকারীদের তালিকায় ছিল বলে জানা যায়। ফলে, মামলাটি ক্রমেই জটিল আকার নেয়।
আরও পড়ুনঃ Weather: আবহাওয়ার হালচাল: রাজ্যজুড়ে টানা বৃষ্টির দাপট, ভিজবে অধিকাংশ জেলা
চার বছর বাদে, অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় এবার সিবিআই জমা দিল সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। সূত্রের খবর, সেই চার্জশিটে নাম রয়েছে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার এবং পাপিয়া ঘোষ-এর। এই তথ্য সামনে আসতেই ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। যদিও এখনো পর্যন্ত এই মামলার বিচার আদালতে চলমান এবং কেউ দোষী কি না তা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করবে।





