মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই এই ঘটনাকে যতই ক্লোজড চ্যাপ্টার বলুন না কেনও কেন্দ্র যে এই বিষয়েকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না তা ফের স্পষ্ট হলো।
ঘূর্ণিঝড় যশ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে প্রথমে থাকবেন বলে সম্মতি জানালেও পরে তা কৌশলে এড়িয়ে যান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গেই এই বৈঠকে যোগ দেননি মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দিঘার পথে উড়ে যান মমতা-আলাপন। আর এর ফল হিসেবেই খাড়া নেমে আসে আলাপনের ওপর। তিন মাসের জন্য মুখ্য সচিব পদের মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লি ডাকে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন- ডাকতে হবে বাবা বলে, অন্যথায় জুটছে মার! বিজেপি নেতাকে এমনই নিদান দিয়েছেন তৃণমূল কর্মী বলে অভিযোগ!
কিন্তু ফের মোদীকে মাত দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বুদ্ধিতে ভর করে মুখ্য সচিব পদে ইস্তফা দিয়ে দেন আলাপন বন্দোপাধ্যায়। আর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আড়াই লক্ষ টাকা বেতনে আগামী তিন বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত যে আরও বাড়বে তা জানাই ছিল। জল আরও গড়াবে ইঙ্গিত দিয়ে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই শো-কজ লেটার ধরিয়েছে কেন্দ্র। সেই জবাব অবশ্যই দেবেন আলাপন বলে জানিয়েছে নবান্ন।
রাজ্য সরকার আলাপনের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কাটিয়ে কি করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চলে যেতে পারেন একজন আইএএস অফিসার! কেন্দ্রের প্রশ্ন, সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের বিচার করবে না কেন্দ্র। কিন্তু একজন আইএএস হিসেবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় যে আচরণ করেছেন সেটা কি ঠিক? রাজ্যের সর্বোচ্চ পদাধিকারি আমলার কাছে কি এই আচরণ প্রত্যাশিত?
প্রশ্ন উঠছে তাহলে কী অবসরের পর নিজের আখের গোছাতেই মুখ্যমন্ত্রীর মন জুগিয়ে কাজ করেছেন আলাপন?
কেন্দ্রে স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও রাজ্যের মুখ্যসচিব মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব স্টাফ হতে পারেন না। ২৮শে মে প্রধানমন্ত্রী যে কলাইকুন্ডায় রিভিউ মিটিং করবেন, তা আগেই জানতেন মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব। ঘটনার বিবরণ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁরই দেওয়ার কথা। কিন্তু ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী যখন উপস্থিত হন ব্রিফিং রুমে তখন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কোনও আধিকারিক-এর মাধ্যমেও তিনি ক্ষয়- ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরেননি।
আলাপনের এহেন অ-প্রশাসনিক কাজকর্মেই বেজায় চটেছে কেন্দ্র।






