সবজির দামে ছ্যাঁকা পকেটে, এবার বন্ধ হল মুরগির পরিবহণও, রাজ্যে আর মিলবে না মুরগির মাংস, খাবে কী আমজনতা?

Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted: এমনিতেই সবজির দামে নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার। ব্যাগ নিয়ে বাজারে গেলেও পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু বাজারের ব্যাগ ভরছে না। সবজির দামই তো আগুন। হাতই দেওয়া যায়। অল্পকিছু যা না কিনলে মুখে খাবার উঠবে না, সেটাই কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাও চিকেন খেয়ে একটু রসনাতৃপ্তি ঘটাচ্ছিল বাঙালি। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সে রাস্তাও বন্ধ। কারণ রাজ্যে এবার নাও মিলতে পারে মুরগির মাংস (Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted)

মুরগির গাড়ির চালককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। পুলিশের ‘তোলা’ দাবী মেটান নি সেই চালক। সেই কারণেই মারধর। সেই ঘটনার প্রতিবাদের জেরেই ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ মুরগি পরিবহণ (Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted)। এর ফলে বাজারে থাকা মুরগির দাম যে হু হু করে বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।   

ঠিক কী ঘটেছিল (Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted)?

জানা গিয়েছে, গত ১১ জুলাই মাঝরাতে একটি মুরগি বোঝাই গাড়ি যাচ্ছিল। সেই সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানা এলাকায় ওই গাড়ির চালককে হেনস্থা করে পুলিশ। গাড়ির চালক তোলার টাকা না দেওয়ায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

চালককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বেলদা হাসপাতালে। এরপর বেশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চালককে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর সদর হাসপাতালে। এই ঘটনায় ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বেলদা থানার আইসি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ও নবান্নে মেল করা হয়। কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি।

গত সোমবার সন্ধ্যেয় পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামে জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। এই বৈঠকেই অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে আগামী ১৮ জুলাই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে তারা মুরগির পরিবহণ বন্ধ রাখবেন অনির্দিষ্টকালের জন্য (Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted)।  

সংগঠনের এক কর্তার কথায়, “একটি মুরগি বোঝাই গাড়ি পুলিশ আটক করে। বৈধ নথি থাকা সত্বেও পুলিশ গাড়ি আটকে রাখে। হেনস্থা করা হয় চালককে। টাকা চাওয়া হয়। পুলিশ যে টাকা চেয়েছিল সেই টাকা চালকের কাছে না থাকায় উনি দিতে অস্বীকার করেন। চালক নিজের সাধ্য মতো পঞ্চাশ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। আর তার জন্য কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা ওই চালককে টর্চের পিছন দিক দিয়ে মাথায় জোরাল আঘাত করেন। রক্তাক্ত হন চালক। গালিগালাজ করা হয়”।

প্রসঙ্গত, গোটা রাজ্যেই মুরগির পরিবহণ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাজারে মুরগির সংকট দেখা দেবে। এর ফলে বাজারে মুরগি না এলে দামও বাড়বে মুরগির মাংসের। হোটেলগুলিতে প্রচুর মুরগির প্রয়োজন হয় সেই মুরগির জোগান কীভাবে হবে বা মধ্য়বিত্তের হেঁশেলই বা মুরগি পৌঁছবে কীভাবে, তা নিয়ে বেশ বড় প্রশ্ন উঠেছে (Chicken Supply in West Bengal has been Disrupted) 

আরও অন্যান্য খবর