সামনেই লোকসভা নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই চেষ্টা চালাচ্ছে নিজেদের জমি শক্ত করতে। এরই সঙ্গে শুরু হয়েছে দলবদলের খেলাও। আর এই মুহূর্তে যদি কোনও প্রভাবশালী কাউকে দলে নেওয়া যায়, তাহলে তো দলের লাভ বটেই। তৃণমূলের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই এবার তৃণমূল তারকা-সাংসদ দেবের কাছে গেল এক ফোন। আর সূত্রের খবর, সেই ফোনটি করেছিলেন বিজেপি শাসিত এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি ঘাটাল হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহা বিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান, এই তিনটি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দেব। জেলা দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। আর এরপরই তৃণমূলে দেবের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। লোকসভা ভোটে তিনি আদৌ কী লড়বেন বা আদৌ কী ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন তিনি, তা নিয়েও প্রশ্ন কম নয়।
বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ফোন দেবকে
দেবের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন বেশ আলোচনা চলছে, সেই সময় ঘটল এক ঘটনা। দেব তৃণমূলের নানান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই তাঁর কাছে এল এক ফোন। আর সূত্রের খবর, সেই ফোনটি করেছিলেন বিজেপি শাসিত রাজ্যের এক মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি দেবকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর।
কে সেই মুখ্যমন্ত্রী?
বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবকে ফোন করে প্রস্তাব দিলেও তিনি কে বা কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর, তিনি উত্তর-পূর্ব কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’র দারুণ খাতির বলেই খবর।
কিন্তু তাঁর নাম এখনও জানা যায়নি। এও জানা যাচ্ছে, দেব যদি বিজেপিতে যোগ দেন্ন, তাহলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেবেন। এমনটা হয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে। তিনিও ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত থেকেই পতাকা তুলে যোগদান করেছিলেন বিজেপিতে।
‘খুব ভালো ছেলে’, মন্তব্য সুকান্তর
দেব তৃণমূলের পদ ছাড়ার পরই বঙ্গ বিজেপির নানান নেতারাও এই নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন বৈ কী! একদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “দেব খুব ভালো ছেলে”। তবে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপির দরজা সকলের জন্য খোলা নয়। এখানে আসতে গেলে অনুরোধ করতে হবে। বিজেপি নেতার কথায়, “সৎসঙ্গ পেতে গেলে মন্দিরে যেতে হবে দরজা ঠকঠক করতে হবে তবে দেবদর্শন হবে”।
যদিও দেবকে যে বিজেপিতে নেওয়া হবে না, তা কিন্তু স্পষ্ট করে বলেন নি সুকান্ত। এদিকে আবার বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন বলে খবর। এসবের পর দেব আসলে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই নজর বঙ্গবাসীর।





