মিড ডে মিলের খাবারে এর আগে পোকা, কেঁচো, মরা সাপ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিককালে এই ধরণের ঘটনা রাজ্যের একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বা স্কুলে দেখা গিয়েছে। সেই খাবার খেয়ে অসুস্থও হয়ে পড়েছে পড়ুয়ারা। এবার ফের তেমনই এক ঘটনার কথা সামনে এল।
এবার আর খাবারে পোকা বা টিকটিকি নয়, মিড ডে মিলের খাবারে এবার নুনের বদলে দিয়ে দেওয়া হল ডিটার্জেন্ট বা গুঁড়ো সাবান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল হইচই পড়ে যায়। এই খাবার খাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হতে থাকে একাধিক শিশু। সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান স্কুলে। এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চায় নি।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের কাপাশিয়া অঞ্চলে। গতকাল, শুক্রবার মিড ডে মিলের খাবার খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। এক অভিভাবক জানান যেখাওয়ার পর থেকেই কারও পেটে ব্যথা শুরু হয় তো কেউ আবার বমি করতে শুরু করে। অভিভাবকরাই পড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে যান। অসুস্থ পড়ুয়াদের ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশির ভাগ পড়ুয়াকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিন স্কুলে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে সরব হন অভিভাবকরা। এই ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আটকে রাখেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভ দেখান তারা। বিকেলের দিকে পুলিশ গিয়ে শিক্ষকদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
সূত্রের খবর, ওই স্কুলের মোট পড়ুয়া সংখ্যা ২০৮। তাদের মধ্যে ঘটনার দিন স্কুলে গিয়েছিল ১২৭ জন। এদিন অভিভাবকরা দাবী তোলেন যাতে রাঁধুনি তো বটেই, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই বিষয়ে ইটাহারের বিডিও অমিত বিশ্বাস জানান যে তিনি এই ঘটনার কথা জানা মাত্রই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান যে রান্নার লোককে শোকজ করা হয়েছে। এই পাশাপাশি স্কুল পরিদর্শক ও যুগ্ম বিডিও-কে স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।





